ট্রাম্পের ধাক্কায় সামরিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিল দক্ষিণ কোরিয়া
অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক আদেশে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে কাটছাঁট করার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামরিক স্বনির্ভরতা অর্জনের তাগিদ দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং।
একই সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিজ সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা কমান্ড দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সিউলের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে নির্দেশ দেন চলতি সপ্তাহে নির্ধারিত দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার ব্যাপ্তি কমিয়ে আনতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ট্রাম্প যুক্তি দেখান, পরমাণু অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার প্রতি সম্মান দেখিয়েছে এবং কোনো হুমকি তৈরি করেনি। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সাথে নিজের "চমৎকার সম্পর্ক"-এর উল্লেখ করে এই বিপুল ব্যয়বহুল মহড়াকে অনাবশ্যক হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের এই সিদ্ধান্ত সিউলের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে নিরাপত্তা সহযোগিতার নীতি পরিপন্থী ও অবিবেচক সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তবে সংকটময় এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং। তিনি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের সাথে দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্রতা অক্ষুণ্ণ রেখেই দক্ষিণ কোরিয়াকে সামরিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে।
প্রেসিডেন্ট লি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "একটি নির্ভরযোগ্য সামরিক জোট নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। তবে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যত বৃদ্ধি পাবে, মিত্র হিসেবে আমাদের প্রয়োজনীয়তা ও মূল্যও তত বাড়বে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জোট বজায় রেখেই দক্ষিণ কোরিয়া তার সশস্ত্র বাহিনীর স্বাধীন পরিচালনা ক্ষমতা পুনর্বহালের কাজ দ্রুত শেষ করবে।"
উল্লেখ্য, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের রক্তক্ষয়ী কোরীয় যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেষ না হয়ে কেবল অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে স্থগিত হয়েছিল। ফলে দুই কোরিয়া আইনত এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধের সময় থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর যুদ্ধকালীন যৌথ পরিচালনার মূল নেতৃত্ব মার্কিন সেনাবাহিনীর চার তারকা বিশিষ্ট জেনারেলদের হাতে চলে যায়। ১৯৯৪ সালে সিউল নিজ সেনাবাহিনীর ওপর শান্তিকালীন নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এখনো ওয়াশিংটনের হাতেই রয়ে গেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর বিগত দুই দশকের থমকে থাকা সেই ক্ষমতা ফেরানোর প্রক্রিয়া আবারও জোরালো রূপ নিল।
|