হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম
হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের প্রতীকী দৃশ্য।

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না কোনো পক্ষই। এতে দুই পরাশক্তির মধ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রত্যক্ষ ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাজারসংক্রান্ত গ্লোবাল ডেটা প্ল্যাটফর্ম 'ট্রেডিং ইকোনমিকস'-এর তথ্যমতে, মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ০.৭৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫.২৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, লন্ডনের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮১.২৩ ডলারে অবস্থান করছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে তেলের দর বেড়েছে ২ শতাংশেরও বেশি।

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের আহ্বানে গত ১৭ জুন ৬০ দিনের জন্য আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করে দুই পক্ষ। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর উভয় পক্ষ মৌখিকভাবে সম্মত হলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে আর বাড়ানো হয়নি।

পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে ইরান সেনাবাহিনী ‘পূর্ণ আক্রমণাত্মক’ অবস্থানের ঘোষণা দেয়, বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রও আলোচনার টেবিল থেকে সরে আসে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বর্তমানে জ্বালানি বিশ্লেষকদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে সমুদ্রপথে বিশ্ব তেল সরবরাহের মূল ধমনি 'হরমুজ প্রণালি'। দুই দেশের অস্থিরতায় এ সংকীর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের আনাগোনা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। গত শনিবার এই প্রণালি দিয়ে মাত্র পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার যাতায়াত করেছে এবং পরের দিন রোববার কোনো ট্যাংকারই এটি ব্যবহার করেনি; অথচ এর আগের সপ্তাহেই একদিনে ৩১টি জাহাজ যাতায়াত করেছিল।

হরমুজ প্রণালির এই সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার সাথে লোহিত সাগরে হুতিদের অব্যাহত হামলা যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।

তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বেড়ে ৪.৭২৮ শতাংশে ঠেকেছে এবং ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার দুই দশকের রেকর্ড ভেঙে ৫.৩১৫ শতাংশ ছুয়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য বজায় থাকলে ব্যাংকগুলোর নীতি সুদহার দীর্ঘমেয়াদে চড়া রাখতে হতে পারে, যা বৈশ্বিক পুঁজিবাজার ও ব্যবসা-বাণিজ্যে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা ডেকে আনবে।

মন্তব্য করুন