লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল হুতিরা
আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্য পথ উত্তর লোহিত সাগরের ইয়ানবু উপকূলে ‘ওয়াফা’ নামের একটি সৌদি রিয়েল এস্টেট ও জ্বালানি সরবরাহকারী কোম্পানির তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ একাধিক ব্যালাস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর আনুষ্ঠানিক দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক সামরিক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এহিয়া সারি নিশ্চিত করেন যে, তাঁদের ছোড়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সঠিকভাবে সৌদি ট্যাংকারটির ওপর সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
সামরিক মুখপাত্র এহিয়া সারি জানান, গত ২২ জুলাই থেকে তাঁদের ঘোষিত কৌশলগত ‘অবরোধের বদলে অবরোধ’ নীতি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে জারিকৃত আন্তর্জাতিক নৌ-অবরোধ সূচির আওতায় এই প্রতিশোধমূলক হামলা পরিচালিত হয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে হুতিদের সামুদ্রিক অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাঁদের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের শিকার হওয়া সৌদি তেল ট্যাংকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮টিতে।
বিবৃতিতে হুতিদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, কৌশলগত বাবেল মান্দেব প্রণালী কেন্দ্রিক হুতিদের সামরিক অবরোধের মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে সৌদি আরব তাদের জ্বালানি পরিবহণ রুট পরিবর্তন করে জাহাজগুলোকে উত্তর লোহিত সাগরের দিকে ঘুরিয়ে পাঠিয়েছিল। কিন্তু সেখানেও তাদের নজরদারি এড়াতে পারেনি সৌদি ট্যাংকার। হুতিদের সতর্কবার্তা ও সামরিক বাধার কারণে এ পর্যন্ত সৌদি আরবের প্রায় ২৯টি ছোট-বড় তেলবাহী জাহাজকে লোহিত সাগর ও আরব সাগরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে অথবা পথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
হুতি সামরিক নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ফলাফল যা-ই হোক না কেন, লোহিত সাগরে সৌদি আরবের প্রতিটি তেল ট্যাংকারের মুক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে এবং সামুদ্রিক রুট অবরুদ্ধ করতে উত্তর লোহিত সাগরে তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ আরও তীব্র করা হবে।
তবে হুতিদের এই চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত সৌদি আরব সরকার বা তাদের নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
|