হরমুজ প্রণালিতে আবুধাবি তেল কোম্পানির জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি’র (ADNOC) মালিকানাধীন একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৮ আগস্ট) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম (WAM)-এর এক প্রতিবেদনে এ হামলার বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
ওয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর সংযোগকারী কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির জাহাজটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। আকস্মিক এ হামলার পরপরই জাহাজ ও সমুদ্র নিরাপত্তা দল দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
আমিরাত সংবাদ সংস্থাটি জোর দিয়ে জানায়, “উক্ত হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং জাহাজ ও যাত্রীদের পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।”
তবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে হামলার শিকার জাহাজটির নাম, হামলায় ঠিক কী ধরনের বা কোন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা কোন দিক থেকে এটি ছোড়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এমন এক সময়ে এ হামলার খবর এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির নিরাপদ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ বিদ্যমান। প্রণালিটি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) উল্লেখযোগ্য একটি অংশ প্রতিদিন বিভিন্ন দেশে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালিতে সামান্যতম আক্রমণ বা বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত বিশ্বের কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা রাষ্ট্র এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটির কাঠামোগত কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না অথবা এটি স্বাভাবিকভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে কি না—সে তথ্য এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির জাহাজে এ ধরনের সরাসরি আঘাত বিশ্ব জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াবে।
|