ইতালির বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট ২৮ ঘণ্টা ধরে আটকে, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা
প্রচণ্ড যান্ত্রিক ত্রুটি ও অব্যवस्था্র কারণে টানা ২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইতালির রোম লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি ফিওমিচিনো বিমানবন্দরে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টরন্টো-রোম-ঢাকা রুটের ২৬০ জন যাত্রী। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেনি।
যাত্রী সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইটের মোট ২৬০ জন যাত্রীর মধ্যে অন্তত ১৭০ জন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী। অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা না থাকায় ইতালীয় ইমিগ্রেশন তাদের বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে স্থানীয় হোটেলে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো বিকল্প সুরক্ষার সার্বিক বন্দোবস্ত করা সম্ভব না হওয়ায় চরম অসহায় অবস্থায় এয়ারপোর্টের বিভিন্ন কোণ ও মেঝেতেই রাত কাটাতে হয়েছে তাদের।
ফ্লাইটের যাত্রী ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার মো. আবু সাঈদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে প্রথমে প্রায় ৮ ঘণ্টা তাদের বিমানের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়। এতে দমবন্ধ পরিস্থিতিতে অনেক বয়স্ক ও শিশু অসুস্থ বোধ করলে একপর্যায়ে বোয়িং উড়োজাহাজ থেকে তাদের নামিয়ে রানওয়ে পার করে টার্মিনালে নিয়ে আসা হয়।
ভূক্তভোগী অপর এক যাত্রী জানান, ফ্লাইটে একাধিক ডায়াবেটিক ও হৃদরোগী ছিলেন যাদের সময়মতো ওষুধ ও খাবার প্রয়োজন। কিন্তু সবার জরুরি ওষুধ লাগেজে প্লেনের হোল্ডে আটকে থাকায় নিয়মিত ওষুধ সেবন বিঘ্নিত হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের কয়েক ঘণ্টা পর সামান্য নাস্তা দেওয়া হলেও এয়ারপোর্টের একমাত্র বিজনেস লাউঞ্জে এত মানুষের জায়গা না হওয়ায় অবর্ণনীয় বিপর্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে, যখন বিমানটি টরন্টো থেকে এসে নিয়মিত রিফুয়েলিংয়ের জন্য রোমে অবতরন করে।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে একদল বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দুপুর আড়াইটায় রোমের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। প্রকৌশলীরা পৌঁছানোর পর দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হলে শনিবারে স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারে। যা রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে যাত্রীদের প্রায় ৪০ ঘণ্টার দীর্ঘ ও প্রখর অপেক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
|