হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে সাধারণ ক্ষমার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে সাধারণ ক্ষমার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

গাজায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণে সাধারণ ক্ষমার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

রাকিব খান: গাজায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে সংগঠনের সদস্যদের জন্য ‘সাধারণ ক্ষমা’ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা। এই মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটা গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, গাজায় হামাস যদি অস্ত্র সমর্পণ করে, তাহলে তাদের জন্য ‘সাধারণ ক্ষমা থাকতে পারে’। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

এই মন্তব্য আসে গাজায় আটক থাকা সর্বশেষ এক ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর। এতে গত অক্টোবরে হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপে যাওয়ার পথ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, “আমরা হামাসের অনেক লোককে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কথা বলতে শুনছি। আমরা মনে করি তারা অস্ত্র জমা দেবে। যদি তারা তা না করে, তাহলে সেটি চুক্তি লঙ্ঘন হবে। আমাদের ধারণা, নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে কোনো না কোনো ধরনের সাধারণ ক্ষমা যুক্ত থাকবে। সত্যি বলতে, নিরস্ত্রীকরণের জন্য আমাদের একটি শক্তিশালী পরিকল্পনাও রয়েছে।”

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি গোপন ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করা হয়।

তিনি বলেন, একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে—নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে হামাসকে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে কি না। এ প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন, যারা অস্ত্র নামিয়ে রাখবে, তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবুও প্রকাশ্যে এই আলোচনা হওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানান রোজালিন্ড জর্ডান।

তিনি আরও বলেন, এই শর্তগুলো চূড়ান্ত করতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করবে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো—কাতার, তুরস্ক ও মিসরের—সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর। তবে ‘সাধারণ ক্ষমা’র বিষয়টি এখন প্রকাশ্যে আলোচনায় এসেছে।

এদিকে সোমবার ইসরায়েল নিশ্চিত করেছে, গাজায় আটক থাকা সর্বশেষ ইসরায়েলি বন্দি রান গিভিলির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আটক সব ইসরায়েলিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানানো হয়।

অন্যদিকে হামাস বলছে, ইসরায়েলকে অবশ্যই কোনো ধরনের বিলম্ব বা শর্ত ছাড়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিজেদের অংশ বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে রাফাহ সীমান্ত উভয় দিক থেকে খুলে দেওয়া, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, গাজা থেকে সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহার এবং গাজা পরিচালনায় জাতীয় কমিটির কাজ সহজ করার দাবি জানায় সংগঠনটি।

ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা গাজা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সব বন্দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর যারা অস্ত্র সমর্পণ করবে, সেই হামাস সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হবে। যারা গাজা ছাড়তে চাইবে, তাদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকবে। একই সঙ্গে গাজায় অবাধে ত্রাণ প্রবেশ এবং মিসরের সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত পুনরায় চালুর কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সোমবার আঙ্কারায় হামাস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে তুরস্কের একটি সূত্র।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে তুরস্কের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আল জাজিরা থেকে অনুবাদকৃত

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন