ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
রাকিব খান: ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা প্রস্তুতি চলছে। তবে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কারণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, মিডিয়ায় যেভাবে যুদ্ধের মতো পরিবেশ দেখানো হচ্ছে, বাস্তবতা তার চেয়ে ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের আলোচনা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। তবে আলোচনার সময়, স্থান বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার ধারণা ইরান সামরিক সংঘাতে না গিয়ে সমঝোতার পথে যেতে চায়। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। দেখা যাক কী হয়। আর যদি আলোচনা না হয়, তবে পরবর্তী পরিস্থিতিও দেখা যাবে। আমাদের বড় একটি নৌবহর সেখানে যাচ্ছে এবং তারা আলোচনারত আছে।"
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশের এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে, যা সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভিমুখে একটি বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে বড় নৌবাহিনী পাঠিয়েছে, যাকে অনেকেই যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানালে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা চরমে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দুই দিনের নৌ মহড়া নিয়ে সতর্ক করে জানিয়েছে, যে কোনো অসতর্ক আচরণ সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াবে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ, যা দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবাহিত হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র আমাদের উপকূলে এসে মহড়া নিয়ে নির্দেশনা দিচ্ছে। তারা একদিকে আমাদের বাহিনীকে সন্ত্রাসী বলছে, আবার অন্যদিকে পেশাদার আচরণের আশা করছে। এটি এক ধরনের দ্বিচারিতা।"
বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হলেও লারিজানি জানিয়েছেন, আলোচনা চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি তেহরানে লারিজানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করেন। কাতার জানিয়েছে, তারা এই এলাকায় নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে আগ্রহী।
আল জাজিরা থেকে অনুবাদকৃত
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ