ব্লকচেইন: বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিপ্লবের পরবর্তী ধাপ, না কি শুধুই স্বপ্ন?

দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ব্লকচেইনের সম্ভাবনা ও চ্যালেন্জ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন

ব্লকচেইন: বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিপ্লবের পরবর্তী ধাপ, না কি শুধুই স্বপ্ন?

ইঞ্জিঃ আঞ্জুমান পারভীন: প্রযুক্তি বিশ্বে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘ব্লকচেইন’। কেবল বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এই প্রযুক্তি এখন শাসনব্যবস্থা, অর্থায়ন এবং সেবাপ্রদানের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। বাংলাদেশও এই যাত্রায় শামিল হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত ২২ এপ্রিল ‘টেক ইনসাইট’ (Tech Insight) কলামে এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও সংকট নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ব্লকচেইন কী? সহজ ভাষায়, ব্লকচেইন হলো একটি ডিজিটাল লেজার বা খাতাবই, যেখানে তথ্যগুলো ব্লক আকারে একে অপরের সঙ্গে চেইন বা শিকলের মতো যুক্ত থাকে। এর বিশেষত্ব হলো, এই তথ্য একবার এন্ট্রি হলে তা আর পরিবর্তন বা ডিলিট করা সম্ভব নয়। ফলে এখানে জালিয়াতির সুযোগ শূন্যের কোঠায়।

বাংলাদেশের জন্য কেন জরুরি? প্রতিবেদনে ব্লকচেইন প্রযুক্তিকে বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপ হিসেবে চিহ্নিত করার পেছনে কয়েকটি জোরালো কারণ তুলে ধরা হয়েছে:

  • ভূমি নিবন্ধন: বর্তমানে দেশের মোট মামলার প্রায় ৬৮% ভূমি সংক্রান্ত। ব্লকচেইন প্রযুক্তিতে জমির রেকর্ড সংরক্ষণ করলে দলিল জালিয়াতি চিরতরে বন্ধ হবে। আন্ধ্রপ্রদেশ ও জর্জিয়া এই মডেলে সফল হয়েছে।

  • রেমিট্যান্স: বর্তমানে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতে যে উচ্চ সার্ভিস চার্জ ও ৩-৫ দিন সময় লাগে, ব্লকচেইনের মাধ্যমে তা কয়েক সেকেন্ডে নামমাত্র খরচে সম্ভব।

  • সরকারি ক্রয় ও টেন্ডার: ই-টেন্ডারিংয়ে ব্লকচেইন ব্যবহার করলে প্রতিটি ধাপ অডিটযোগ্য হবে, যা দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় করবে।

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: জাল সার্টিফিকেট শনাক্ত এবং রোগীর মেডিকেল হিস্ট্রি সুরক্ষিত রাখতে এই প্রযুক্তি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

সংকট ও চ্যালেন্জ: সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবায়নের পথে কিছু বড় বাধা রয়েছে: ১. দেশে দক্ষ ব্লকচেইন ডেভেলপারের অভাব। ২. স্পষ্ট নীতিমালা ও আইনি কাঠামোর অনুপস্থিতি। ৩. নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সরবরাহের চ্যালেন্জ।

ভবিষ্যৎ ভাবনা: বাংলাদেশের আইসিটি বিভাগ ইতিমধ্যে ব্লকচেইনকে ‘উদীয়মান প্রযুক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই এই প্রযুক্তির প্রসার ঘটবে বলে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম পরিবর্তন এবং সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয় প্রয়োজন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন