আলীকদমে উজাড় হচ্ছে প্রাকৃতিক বন, তীব্র সংকট পানীয় জলের

আলীকদমে উজাড় হচ্ছে প্রাকৃতিক বন, তীব্র সংকট পানীয় জলের

বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের দুর্গম আলীকদম-থানচি সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্বিচারে প্রাকৃতিক বন উজাড় ও কাঠ পাচারের মহোৎসব চলছে। একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠীর অন্তত পাঁচটি পাড়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানীয় জলের সংকট।

ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র: আলীকদম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পামিয়া ম্রো পাড়া, তন্তুই পাড়া ও ব্যাঙঝিরি এলাকায় প্রায় ২০০ একর জুড়ে এই বন উজাড় চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পোলা ব্যাঙ ঝিরির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করে পাহাড় কেটে ট্রাক চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে গর্জন, চাম্পা ফুল, বৈলাম ও চাপালিশসহ শতবর্ষী নানা প্রজাতির মাতৃগাছের গুঁড়ি।

বিপন্ন জনজীবন ও জীববৈচিত্র্য: বন উজাড়ের ফলে ঝিরিগুলো শুকিয়ে গেছে। এতে পামিয়া, তন্তুই, নামচাক, কাকই ও আদুই পাড়ার ম্রো বাসিন্দারা বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করছেন। স্থানীয়রা জানান, মাত্র দুই বছর আগেও এই বনে হরিণ, ভালুক ও বন্যশূকরের বিচরণ ছিল, যা এখন পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। আদুই পাড়ার কার্বারী কামপ্লাত ম্রো আক্ষেপ করে বলেন, “ঝিরির পানির ওপর আমরা সাত-আটটি পাড়া নির্ভরশীল। এখন আমরা পানির জন্য হাহাকার করছি।”

পাচারের কৌশল: অভিযোগ রয়েছে, ইসমাইল নামে এক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেট ‘জোত পারমিট’-এর আড়ালে বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে কাঠ পাচার করছে। বন থেকে কাটা গাছের একটি বড় অংশ আলীকদমের অবৈধ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের বান্দরবান চ্যাপ্টারের সভাপতি জোয়াম লিয়ান আমলাই এই প্রাকৃতিক বন ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানও ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন