ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থী চয়ন, কী বলে ইসলাম

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থী চয়ন, কী বলে ইসলাম

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থী চয়নে কী বলে ইসলাম

তাইশা তাসনিম: আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভোট দেওয়া নাগরিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ইসলামের দৃষ্টিতে ভোট কেবল একটি অধিকার নয়, বরং এটি একটি আমানত ও সাক্ষ্য। সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করা ইবাদতের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে, যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য করা হয়।

ভোট একটি আমানত

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন— “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দেন আমানত তার প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে।” (সুরা নিসা: ৫৮)

ভোট হলো জনগণের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আমানত। যে ব্যক্তি অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত বা জালিম—তাকে ভোট দেওয়া মানে আমানতের খিয়ানত করা। তাই ইসলাম ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব দেয়।

ন্যায় ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন

ইসলামে নেতৃত্ব বা দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা (আহলিয়্যাত) ও ন্যায়পরায়ণতা প্রধান শর্ত। কুরআনে বলা হয়েছে— “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সবচেয়ে যোগ্য ও শক্তিশালী, তাকেই কাজে নিযুক্ত করাই উত্তম।” (সুরা কাসাস: ২৬)

এখানে “শক্তিশালী” বলতে শারীরিক শক্তি নয়, বরং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, সততা ও নৈতিক দৃঢ়তাকে বোঝানো হয়েছে।

অন্যায়কে সমর্থন করা হারাম

যদি কেউ জেনে-বুঝে অন্যায়কারী বা জালিম ব্যক্তিকে ভোট দেয়, তবে সে তার অন্যায়ের অংশীদার হয়ে যায়। কুরআনে আল্লাহ বলেন— “আর তোমরা জালিমদের দিকে ঝুঁকে পড়ো না, তাহলে আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে।” (সুরা হুদ: ১১৩)

অতএব, দলীয় স্বার্থ, ব্যক্তিগত লাভ বা আবেগের কারণে অন্যায়কারীর পক্ষে ভোট দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে গুনাহের কাজ।

সাক্ষ্য গোপন করা নিষিদ্ধ

ভোট অনেক সময় সাক্ষ্যের মতো কাজ করে। কুরআনে এসেছে— “সাক্ষ্য গোপন করো না। যে তা গোপন করে, তার অন্তর গুনাহগার।” (সুরা বাকারা: ২৮৩)

যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট না দেওয়া বা অযোগ্যকে ভোট দেওয়া সত্য গোপন করার শামিল হতে পারে।

হাদিসে নেতৃত্ব বিষয়ে সতর্কতা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন— “যে ব্যক্তি মুসলমানদের কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করল, অথচ সে জানে যে তার চেয়ে যোগ্য কেউ আছে, সে আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনদের সঙ্গে খিয়ানত করল।” (হাদিস: হাকেম)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়—যোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে অযোগ্যকে সমর্থন করা বিশ্বাসঘাতকতা।

ভোট না দেওয়া প্রসঙ্গ

যদি ভোট না দিলে নিশ্চিতভাবে অযোগ্য ব্যক্তি ক্ষমতায় আসে, তাহলে ভোট দেওয়া ফরজে কিফায়া বা প্রয়োজনভেদে ওয়াজিব হতে পারে। কারণ ইসলাম সর্বদা ক্ষতির চেয়ে কম ক্ষতি বেছে নিতে বলে।

ইসলামের দৃষ্টিতে ভোট দেওয়া একটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। ভোটের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়। তাই মুসলমান হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো—সৎ, যোগ্য, আল্লাহভীরু ও ন্যায়পরায়ণ প্রার্থীকে নির্বাচন করা। এতে শুধু দুনিয়ায় কল্যাণ নয়, আখিরাতের মুক্তিও নিহিত রয়েছে।

আযহার/সকালবেলা

মন্তব্য করুন