নাগরপুরে হাঁস পালনে ফজলুর বাজিমাত

নাগরপুরে হাঁস পালনে ফজলুর বাজিমাত

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দক্ষিণ দুয়াজানি গ্রামে হাঁস পালনের মাধ্যমে সফলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উদ্যোক্তা মো. ফজলুর রহমান ফজলু। তার প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরপুর হাঁসের খামার এন্ড হ্যাচারি’ এখন এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে, যা দেখে স্থানীয় বেকার যুবকরাও আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সরেজমিনে খামারটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, ফজলুর রহমান ১৪০ শতাংশ জমিতে বিশাল পুকুর খনন করে মাছ চাষের পাশাপাশি পাড় সংলগ্ন জমিতে পরিকল্পিতভাবে হাঁস পালন করছেন। কয়েক বছর আগে স্বল্প পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে কয়েক হাজার হাঁস রয়েছে। খাকি ক্যাম্বেল, জিনডিং, বেইজিং ও ইন্ডিয়ান রানারসহ প্রায় ১২টি উন্নত জাতের হাঁস তার এই খামারের মূল আকর্ষণ। আধুনিক হ্যাচারি প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি মানসম্মত হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন ও বিপণন করছেন।

খামারের স্বত্বাধিকারী মো. ফজলুর রহমান জানান, আনুমানিক ১০-১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি এই খামার গড়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, “শুরুতে বিনিয়োগ নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও এখন প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ডিম উৎপাদন হচ্ছে। এই ডিম ও হাঁস দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়, যা থেকে বর্তমানে মাসিক আয় বেশ সন্তোষজনক।” তবে পশুখাদ্যের ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধি এবং মাঝে মাঝে রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাবকে খামার পরিচালনার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও টিকা সহায়তা পাওয়ার কথা জানিয়ে ফজলু বলেন, সরকারি এই সহযোগিতা খামারটি টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে খামারটি আরও বড় করার এবং নতুন উদ্যোক্তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

নাগরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ আঃ মমিন বলেন, “হাঁস পালন নাগরপুরের অর্থনীতির জন্য একটি সম্ভাবনাময় খাত। ফজলুর রহমানের মতো উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে এলাকায় কর্মসংস্থান বাড়বে। আমরা খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করছি।”

দক্ষিণ দুয়াজানি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই খামারটি প্রতিষ্ঠার পর এলাকায় হাঁস পালনের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এখন ফজলুর রহমানের কাছ থেকে উন্নত জাতের বাচ্চা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে খামার করার স্বপ্ন দেখছেন। গ্রামীণ অর্থনীতিতে এমন উদ্যোগ কৃষি ও মৎস্য খাতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন