ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ হুমায়ুন কবীর, ময়মনসিংহ: দেশে বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে ভয়াবহ তেল কেলেঙ্কারির ঘটনায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর ফলে গত ৬ মাসের ব্যবধানে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব—উভয় শীর্ষ নেতাই বহিষ্কৃত হলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে হাফেজ আজিজুল হককে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এই বহিষ্কারাদেশ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নিয়মিত মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রতিনিধি দল গৌরীপুরের কলতাপাড়া বাজারে আজিজুল হকের মালিকানাধীন ‘মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন’ পরিদর্শন করেন। নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ভৈরব বাজার ডিপো থেকে এই স্টেশনে মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু স্টেশনের ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত এই বিপুল পরিমাণ তেলের মজুত ও বিক্রির কোনো সন্তোষজনক হিসাব দিতে পারেননি। মাত্র ৬ দিনে প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেল রহস্যজনকভাবে ‘উধাও’ হওয়ার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে।
এই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত ও কালোবাজারির অভিযোগে সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্টেশন ম্যানেজার জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত নেতা হাফেজ আজিজুল হক দাবি করেছেন, এটি তার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ মাসের মধ্যে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরণ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশগ্রহণের দায়ে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। শীর্ষ দুই নেতার এমন বিদায়ে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ