ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: পর্যটন নগরী কক্সবাজারে দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে সুপেয় পানির সংকট। বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্ট—সর্বত্রই এখন পরিশোধিত পানির জন্য হাহাকার। কোথাও ব্যবহারের পানি লবণাক্ত, আবার কোথাও অতিরিক্ত আয়রনের সমস্যায় জনজীবন অতিষ্ঠ। ফলে সাধারণ মানুষ এখন বোতলজাত ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার পৌর এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর গড়ে ৬ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে যাচ্ছে। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এখন স্বাদু পানি পেতে ৯০ থেকে ১১০ ফুট গভীরে যেতে হচ্ছে, যা এক দশক আগেও অনেক কম গভীরে পাওয়া যেত। অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণই এই সংকটের মূল কারণ। এমনকি শহরের কিছু এলাকায় ৪০০ ফুটের নিচে গিয়েও মিষ্টি পানির দেখা মিলছে না।
পানির এই সংকটের কারণে ভুক্তভোগীরা বারবার বাসা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। গাড়ির মাঠ এলাকার বাসিন্দা নুরুল আবচার বলেন, "গত দুই বছরে পানির সমস্যার কারণে ৩ বার বাসা পরিবর্তন করেছি। খাওয়ার পানি কিনে খেতে হয় আর ব্যবহারের পানিতে গোসল করলে চর্মরোগের ভয় থাকে।"
পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটি ও ময়লা থাকার কারণে শহরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রাইভেট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। বোতলজাত পানি সরবরাহকারী জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুধুমাত্র হোটেল-মোটেল জোনের একটি অংশেই প্রতিদিন প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকার পানি সরবরাহ করতে হয়। পর্যটন মৌসুমে এই চাহিদা ৪-৫ গুণ বেড়ে যায়।
কক্সবাজার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রুবেল বড়ুয়া জানান, ১৪-১৫ বছর আগে ১৫০-২০০ ফুট গভীরে পানি মিললেও এখন ১ হাজার ৫০০ ফুট গভীরেও মানসম্মত পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা আগমনের পর পানির চাহিদা ও সংকটের মাত্রা আরও বেড়েছে।
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন ডিপিএইচই-র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইবনে মায়াজ প্রামাণিক। তিনি জানান, প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার শহরে 'ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার' প্রকল্পটি চালু হলে পৌরসভার চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণ হবে। এই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি প্রতি ঘণ্টায় ১০ লক্ষ লিটার পানি পরিশোধন করতে সক্ষম। বর্তমানে সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পানির স্তর প্রতি বছর গড়ে ২ থেকে ৫ ফুট নিচে নামছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ