কাজ না করে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

কাজ না করে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

মাসুম বিল্লাহ, বাগেরহাট: বাগেরহাট জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করে এবং কোথাও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। খোদ জেলা পরিষদের কতিপয় সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রায় ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলনের এই ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়ম তদন্তে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরএফকিউ (RFQ) দরপত্রের মাধ্যমে ১ থেকে ৬ নম্বর প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। দরপত্র অনুযায়ী, কাজ শুরুর তারিখ ছিল ২৯ জানুয়ারি এবং শেষ করার কথা ছিল ১০ ফেব্রুয়ারি। এক মাসের কাজের সময়সীমা থাকলেও কার্যাদেশে রহস্যজনকভাবে মাত্র ১০ দিন সময় দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে তড়িঘড়ি করে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে বিল প্রদান ও চেক প্রস্তুত করা হয়।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চিতলমারী, ফকিরহাট, কচুয়া ও রামপাল ডাকবাংলোর আধুনিকায়ন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন মেরামত, আসবাবপত্র সরবরাহ এবং অফিস কক্ষের আধুনিকায়ন ও রঙ করার কাজ। মোট ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের এই ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে তিনটির কাজ একেবারেই করা হয়নি, অথচ সেগুলোর বিল চেকে পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি তিনটি প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে চেক হস্তান্তরের অপেক্ষায় রাখা হয়। এই অনিয়মের সাথে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. শহিদুল আলম এবং সার্ভেয়ার ইমরানসহ একটি অসাধু চক্র জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী মো. শহিদুল আলম অসহযোগিতা করেন। কাজ শেষ না করেই বিল দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এমনকি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস আধুনিকায়নের দুটি প্রকল্পে ১৬ লাখ টাকার কাজ হয়েছে বলে তিনি দাবি করলেও বাস্তবে সেখানে কোনো কাজই পাওয়া যায়নি। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রিয়াদ নিজেই কাজ না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, সহকারী প্রকৌশলী তাকে ভুল তথ্য দিয়েছেন। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন