ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নাজমুল হাসান, মাদারীপুর: মাদারীপুরের কালকিনিতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ভয়ংকর পরিণতির শিকার হচ্ছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ। পালরদী নদীর অব্যাহত ভাঙনে ফাসিয়াতলা-লক্ষীপুর-পখিরা সড়কটির প্রায় ৫০০ মিটার পাকা অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত দুই বছর ধরে এই বেহাল দশা চললেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, এক সময়ের ব্যস্ত পাকা সড়কটি এখন ভাঙাচোরা এক সরু পথে পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কালকিনির এনায়েতনগর, আলীনগর, বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ কৃষিজমির পাশ দিয়ে কোনোমতে যাতায়াত করছেন। বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে মানুষকে অতিরিক্ত ৭ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হচ্ছে, যা সাধারণ যাত্রী ও বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে পালরদী নদী থেকে অবাধে অবৈধ বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এই ধ্বংসযজ্ঞের কারণেই নদীপাড়ের মাটি সরে গিয়ে রাস্তাটি ধসে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বালু উত্তোলনের কারণে আমাদের রাস্তাটা নদী গিলে খেল, অথচ প্রশাসনের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।" সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান আকলিমা বেগম নামের এক অভিভাবক।
সামনে বর্ষা মৌসুম আসায় সড়কটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনিয়া জানান, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) চিঠি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, "পাউবো বেড়িবাঁধের কাজ শেষ করে দিলেই আমরা সড়ক সংস্কারের পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।"
জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ