ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ইসলামের ইতিহাসে তাবুক যুদ্ধ নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। এই যুদ্ধের সফরে মুসলিম বাহিনী এক ভয়াবহ খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মুজিজা বা অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে কীভাবে হাজারো সাহাবীর ক্ষুধা নিভল, সেই সত্য ঘটনা বর্ণিত হয়েছে সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে।
খাদ্য সংকট ও সাহাবীদের প্রস্তাব: হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তাবুক যুদ্ধের সময় খাবারের তীব্র অভাব দেখা দিলে সাহাবীরা অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। নিরুপায় হয়ে তাঁরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে প্রস্তাব দিলেন, যেন তাঁদের যাতায়াতের বাহন উটগুলো জবাই করে খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। রাসুল (সা.) পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অনুমতি দিতে চাইলেন।
হজরত ওমর (রা.)-এর পরামর্শ: ঠিক সেই মুহূর্তে হজরত ওমর (রা.) সেখানে উপস্থিত হয়ে এক বিচক্ষণ পরামর্শ দিলেন। তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! উট জবাই করলে তো বাহন কমে যাবে এবং যাতায়াতে সমস্যা হবে। তার চেয়ে বরং আপনি সবাইকে যার কাছে যা অবশিষ্ট খাবার আছে তা নিয়ে আসার নির্দেশ দিন এবং বরকতের দোয়া করে দিন। আল্লাহ হয়তো এতেই সবার খাবারের ব্যবস্থা করে দেবেন।"
বরকতের মুজিজা: মহানবী (সা.) এই পরামর্শ গ্রহণ করলেন এবং একটি চামড়ার দস্তরখানা বিছানোর নির্দেশ দিলেন। সাহাবীরা যে যা পারলেন নিয়ে এলেন—কারও হাতে এক মুঠো ভুট্টা, কারও হাতে কিছু খেজুর কিংবা এক টুকরো শুকনো রুটি। যৎসামান্য সেই খাবারগুলো দস্তরখানায় জমা করার পর নবীজি (সা.) আল্লাহর কাছে বরকতের দোয়া চাইলেন।
এরপর তিনি সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন নিজ নিজ পাত্রে খাবার সংগ্রহ করতে। দেখা গেল, অলৌকিকভাবে সেই সামান্য খাবার থেকেই উপস্থিত সকল সাহাবী পরিতৃপ্ত হয়ে খাবার খেলেন এবং প্রত্যেকের পাত্র পূর্ণ হয়ে গেল। এমনকি খাওয়ার পরও কিছু খাবার উদ্বৃত্ত রয়ে গেল।
জান্নাতের সুসংবাদ: এই অভাবনীয় ঘটনা প্রত্যক্ষ করে মহানবী (সা.) বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল।" তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, কোনো বান্দা যদি সন্দেহমুক্ত হৃদয়ে এই দুটি সাক্ষ্য প্রদান করে, তবে তার জান্নাতে যাওয়ার পথে কোনো বাধা থাকবে না।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ