ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে এক নান্দনিক ও আবেগঘন সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উদযাপিত হলো। কবির অমর কাব্যগ্রন্থ ‘নকশিকাঁথার মাঠ’-এর নৃত্যনাট্য রূপায়নের মাধ্যমে মঞ্চে পুনরায় জীবন্ত হয়ে উঠল রুপাই ও সাজুর কালজয়ী বিরহগাথা। শুক্রবার সন্ধ্যায় তেজগাঁও লিংক রোডের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে ‘বেঙ্গল ইন মোশন’-এর তৃতীয় আসরে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।
এমডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশ এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্র্যান্ড ‘মায়া’ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নৃত্যাঞ্চলের অসাধারণ পরিবেশনা: দেশের খ্যাতিমান নৃত্যদল ‘নৃত্যাঞ্চল’-এর পরিবেশনায় এই নৃত্যনাট্যটি দর্শকদের মোহাবিষ্ট করে রাখে। অনুষ্ঠানের কিউরেটর ছিলেন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী আনিসুল ইসলাম হিরু। মঞ্চে প্রধান দুই চরিত্র রুপাই ও সাজুর ভূমিকায় অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী জুটি শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নীপা। তাঁদের নিখুঁত অঙ্গভঙ্গি ও গভীর অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠে গ্রাম বাংলার এক বিয়োগান্তক প্রেমের আখ্যান।
আয়োজনের প্রেক্ষাপট: পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের এই আখ্যানটি মূলত গ্রামীণ যুবক রুপাই ও সাজুর সরল প্রেম, পরিণয় এবং ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সৃষ্ট চিরস্থায়ী বিচ্ছেদের গল্প। দস্যুদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর রুপাইয়ের ঘরছাড়া হওয়া এবং স্বামীর অপেক্ষায় সাজুর সেই তিলে তিলে ক্ষয় হওয়ার দৃশ্যগুলো নাচের মুদ্রায় এতটাই জীবন্ত ছিল যে, উপস্থিত দর্শকরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সংস্কৃতি সংরক্ষণে সামাজিক দায়বদ্ধতা: অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে এমডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশের সম্পাদক রুমানা চৌধুরী এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাঈদ বক্তব্য রাখেন। তাঁরা দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সুস্থ ধারার সংস্কৃতি বিকাশে এমন সৃজনশীল উদ্যোগের পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেন তাঁরা।
ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা: উল্লেখ্য যে, ১৯৫৯ সালে বুলবুল ললিতকলা একাডেমির উদ্যোগে প্রথমবার এই কাব্যটি নৃত্যনাট্যে রূপ পেয়েছিল। সেই মূল ধারাকে অনুসরণ করে এবং আধুনিক মঞ্চায়নের মেলবন্ধনে এবারের আয়োজনটি সম্পন্ন করা হয়। পহেলা বৈশাখ এবং আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসকে কেন্দ্র করেই এই বিশেষ আসরটি সাজানো হয়েছিল বলে জানান কিউরেটর আনিসুল ইসলাম হিরু।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ