ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নাজমুল হাসান, মাদারীপুর: আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতির অনন্য ধারক মৃৎশিল্প আজ মাদারীপুর জেলায় অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। প্লাস্টিক, স্টিল ও সিরামিক পণ্যের সহজলভ্যতায় রাজৈর, কালকিনি, শিবচর ও সদর উপজেলার শত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।
শিবচরের ভদ্রাসন পাল পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সত্তরোর্ধ্ব মৃৎশিল্পী ভবোনাথ পাল চাকা ঘুরিয়ে নিপুণ হাতে কলস, হাতি, ঘোড়া ও গ্রাম্য পুতুল তৈরি করছেন। রোদে শুকিয়ে আগুনে পোড়ানোর পর রঙের নিখুঁত প্রলেপে এসব পাত্র প্রাণ ফিরে পেলেও শিল্পীর কণ্ঠে ছিল আক্ষেপ। তিনি জানান, এক সময় এই পাড়ায় ২০০ পরিবার মৃৎশিল্পে জড়িত থাকলেও এখন মাত্র ২০-৩০টি পরিবার কোনোমতে এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছে।
শিল্পীরা জানান, আঠালো মাটির দুষ্প্রাপ্যতা, চড়া দাম এবং জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। রাজৈরের টেকেরহাট পালপাড়ার শিল্পী হরহরি দাস বলেন, "সারা বছর কাজ থাকে না, কেবল বৈশাখী মেলা বা উৎসব ঘিরে কিছুটা ব্যস্ততা বাড়ে। কিন্তু এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।" মূলত আধুনিক কাঁচামালের ব্যবহার বৃদ্ধি ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এই শিল্পকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
মৃৎশিল্পীদের টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান। তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে মৃৎশিল্পীদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণসহ কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ ও আধুনিক নকশার প্রশিক্ষণ না পেলে মাদারীপুরের এই গৌরবময় ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের কাছে কেবল জাদুঘরের নিথর প্রদর্শনীতে পরিণত হবে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ