কিছুটা সময় নিজের জন্য: নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব

কিছুটা সময় নিজের জন্য: নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব

নাজমুন নাহার হেলেন: সংসার, সন্তান আর কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততায় একজন নারী সবসময় নিজেকে উজাড় করে দেন। কিন্তু এই উদয়-অস্ত পরিশ্রমের মাঝে নিজের অস্তিত্ব বা নিজস্বতাকে তিনি কোথাও হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের সবার যত্ন নিতে গিয়ে নিজের শরীরের রোগজরা আর মানসিক অবসাদকে উপেক্ষা করা মধ্যবিত্ত আটপৌরে নারীর চিরচেনা চিত্র। অথচ একজন নারী নিজে সুস্থ না থাকলে তাঁর পরিবারকে সুস্থ রাখা অসম্ভব।

নারীর জীবনে বয়ঃসন্ধি থেকে শুরু করে মেনোপজ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শরীরে ও মনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। হরমোনজনিত এই পরিবর্তনের সময়ে প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি ও সচেতনতা। বিশেষ করে মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তির সময় ক্যালসিয়ামের ঘাটতি, হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া, হট ফ্ল্যাশ বা মেজাজের পরিবর্তনের মতো সমস্যাগুলো দেখা দেয়। পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক সক্রিয়তার প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

নারীর সুস্বাস্থ্য ও প্রশান্তির জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ:

  • পুষ্টিকর খাবার: ডায়েটে পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফলমূল এবং বয়স অনুযায়ী ক্যালসিয়াম ও আয়রনযুক্ত খাবার রাখুন। জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন এবং প্রচুর পানি পান করুন।

  • শারীরিক সক্রিয়তা: নিয়মিত হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করুন। এটি শরীরের জড়তা কমায় এবং মন ভালো রাখে।

  • মানসিক প্রশান্তি: প্রতিদিন অন্তত ৫-১০ মিনিট নীরবতা পালন, ধ্যান (Meditation) বা পছন্দের কাজ যেমন—বই পড়া বা গান শোনার জন্য সময় বের করুন।

  • পর্যাপ্ত ঘুম: নতুন উদ্যমে কাজ করার জন্য প্রতিদিন রাতে ৭-৮ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করুন।

  • স্বাস্থ্য পরীক্ষা: বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সের পর নিয়মিত শারীরিক চেকআপ করান এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন থাকুন।

  • নিজের যত্ন বিলাসিতা নয়: মানসিক চাপ বা অবসাদ অনুভব করলে প্রিয়জনদের সঙ্গে শেয়ার করুন, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

মনে রাখবেন, নিজের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ থাকার অপরিহার্য অংশ। সুস্থ মন আর শরীরই পারে একটি সুন্দর ও সুখী জীবন উপহার দিতে। তাই নিজের প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দিন এবং ভালো থাকুন।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন