ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
স্বাস্থ্য ডেস্ক: সংবাদ পাঠ, গান, আবৃত্তি কিংবা শিক্ষকতা—পেশা যাই হোক, একজন কণ্ঠশিল্পীর প্রধান হাতিয়ার তার স্বরযন্ত্র। কিন্তু এই অমূল্য সম্পদটির সঠিক যত্ন না নিলে দেখা দিতে পারে ‘ভোকাল নোডিউল’-এর মতো জটিল সমস্যা। মূলত অতিরিক্ত বা ভুলভাবে কণ্ঠস্বর ব্যবহারের ফলে স্বরযন্ত্রের ভোকাল কর্ডে যে ছোট টিউমার বা শক্ত দানার মতো মাংসপিণ্ড তৈরি হয়, তাকেই ভোকাল নোডিউল বলে। এর ফলে গলার স্বর বসে যায় বা স্থায়ীভাবে কর্কশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, যারা পেশার প্রয়োজনে একটানা উচ্চস্বরে কথা বলেন বা চিৎকার করেন, তারা এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগেন। বিশেষ করে শিক্ষক, গায়ক, হকার, বাস কন্ডাক্টর এবং নিউজ প্রেজেন্টারদের মধ্যে এই সমস্যাটি প্রকট। স্বরনালির অতিরিক্ত ঘর্ষণের ফলে সেখানে পানি জমে ফুলে ওঠে এবং পরে তা শক্ত দানায় রূপ নেয়।
পর্যাপ্ত পানি পান: ভোকাল কর্ড সচল রাখতে আর্দ্রতা জরুরি। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত, তবে বরফ ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলতে হবে।
ভোকাল রেস্ট: একটানা দীর্ঘ সময় কথা বলা বা গান গাওয়ার মাঝে বিরতি নিন। প্রতি এক ঘণ্টা কাজের পর অন্তত ১৫ মিনিট কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের অভাবে কণ্ঠস্বরে ক্লান্তি আসে এবং স্পষ্টতা কমে যায়। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন।
খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা: কুসুম গরম পানিতে মধু বা আদা চা পান করলে গলার পেশি শিথিল থাকে। এ ছাড়া লবণ-পানিতে গার্গল করা গলার প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, যারা উচ্চকণ্ঠে গান করেন তারা যেন নিয়মিত ‘লো পিচে’ অনুশীলনের অভ্যাস করেন। ধূমপান এবং অতিরিক্ত চা-কফি বর্জন করা উচিত, কারণ এগুলো স্বরনালিকে শুষ্ক করে ফেলে। প্রয়োজনে চিৎকার না করে মাইক্রোফোন ব্যবহার করার অভ্যাস করা ভালো। যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গলা ভাঙা থাকে, তবে দেরি না করে একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের (ENT Specialist) পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আধুনিক চিকিৎসায় স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ বা প্রয়োজনে লেজার সার্জারির মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ