মহেশপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: প্রেমিকসহ গ্রেফতার ৫

মহেশপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: প্রেমিকসহ গ্রেফতার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের মহেশপুরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী ও ভিডিও ধারণকারীসহ ৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা সবাই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারায় নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া পুলিশ অপরাধে ব্যবহৃত ও ভিডিও ধারণকৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভিকটিম কিশোরী তার প্রেমিক আসের আলী রাজুর (১৯) সাথে দেখা করতে বাগদিয়ার আইট গ্রামের একটি ঘাসের জমিতে যায়। সেখানে রাজু প্রথমে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। ঠিক সেই মুহূর্তে স্থানীয় চার যুবক—হযরত আলী (২২), মো. শাওন (২০), আবু নাছিম নয়ন (২৩) এবং আমিন (২১) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা রাজুকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে ভিকটিমকে হত্যার ভয় দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় আসামী আমিন তার মোবাইলে ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে এবং বিষয়টি জানাজানি করলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজালের নির্দেশে ও মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসানের তদারকিতে অভিযানে নামে পুলিশ। গত ১ এপ্রিল ভিকটিমের ফুফু বাদী হয়ে মামলা দায়েরের পর ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালিত হয়। ১ এপ্রিল নিজ বাড়ি থেকে প্রধান আসামী হযরত আলী ও প্রেমিক রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। ৮ এপ্রিল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে নয়ন এবং ঢাকার গুলশান থেকে শাওনকে গ্রেফতার করা হয়। ৯ এপ্রিল ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে ভিডিও ধারণকারী আমিনকে গ্রেফতার এবং তার কাছ থেকে আপত্তিকর ভিডিওসহ মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ৫ আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া ভিকটিমের জবানবন্দি ২২ ধারা মোতাবেক লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। জব্দকৃত মোবাইল ফোন দুটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে।

মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান: "চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সকল আসামিকে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।"

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন