ঘুষ আর দালাল চক্রে বন্দি গাজীপুর বিআরটিএ

ঘুষ আর দালাল চক্রে বন্দি গাজীপুর বিআরটিএ

রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর: গাজীপুর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয় যেন দুর্নীতির এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এখানে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য চললেও তা দেখার যেন কেউ নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিশাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের নেপথ্যে রয়েছেন মোটরযান পরিদর্শক মোঃ নাসিরুল আরিফিন ও মোঃ মহিউদ্দিন।

সরেজমিনে গত বুধবার (২৫ মার্চ ২) অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিআরটিএ ভবনের ছাদ থেকে শুরু করে সর্বত্র দালালদের অবাধ আনাগোনা। সোলেমান, জিন্নাত, আহমদ, কাজল, রাজ্জাক, সাত্তার, বাদশা, মনির, জাহাঙ্গীর, শাহীন ও মফিজসহ একটি শক্তিশালী দালালচক্র এই ঘুষের টাকা আদায় করে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ঘুষের হার নিম্নরূপ:

সেবার ধরণসাধারণ ঘুষের হারবিশেষ (গাড়ি/মালিক ছাড়া)
মালিকানা পরিবর্তন১০ - ১২ হাজার টাকা২৫ - ৩০ হাজার টাকা
মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন৪ - ৬ হাজার টাকা-
ফিটনেস সার্টিফিকেট২ - ৪ হাজার টাকা-
ড্রাইভিং লাইসেন্স৩ - ৪ হাজার টাকা-

মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিনকে তাঁর নিজস্ব দালালদের নিয়ে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করতে দেখা যায়। পাশেই চালকদের সাথে দালালদের গোপন লেনদেন চললেও তিনি ছিলেন নির্বিকার। দালাল মনিরের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিটি ফাইল ছাড়াতে নাসিরুল আরিফিনকে ৫-৬ হাজার টাকা এবং ফাইল বের করার জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই উপার্জিত অর্থের ভাগ বিআরটিএ-র বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং কিছু নামধারী 'হলুদ সাংবাদিক'দের পকেটেও যায়, যার ফলে সবাই চুপ থাকে।

বিআরটিএ-র এই দুর্নীতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সড়কের নিরাপত্তায়। ঘুষের বিনিময়ে অদক্ষ চালকরা লাইসেন্স পাচ্ছে এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামার অনুমতি পাচ্ছে। এর ফলে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাঝে মাঝে লোকদেখানো অভিযান চললেও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েকদিন পরই পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যায়।

এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি গাজীপুর বিআরটিএ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) এস এম মাহফুজুর রহমানের সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহলের দাবি, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় তথা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কঠোর নজরদারি ও দুর্নীতিমুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ না দিলে গাজীপুর বিআরটিএ-র এই ‘ঘুষ রাজত্ব’ বন্ধ করা সম্ভব নয়।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন