ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর: শিল্পনগরী গাজীপুরে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। মহানগরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক—কোথাও নিরাপদ নন পথচারীরা।
মোবাইল, মানিব্যাগ খোয়ানোর পাশাপাশি বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ঈদকে সামনে রেখে এই চক্রের আনাগোনা ও দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
গাজীপুর একটি বিশাল শিল্প এলাকা, যেখানে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই পোশাক শ্রমিক, যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে জীবিকার তাগিদে এসেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাস থেকে নামামাত্রই পকেটমার বা ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে হচ্ছে। চলন্ত বাসের জানালা দিয়ে মোবাইল টেনে নেওয়া কিংবা রিকশা আরোহীদের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দেওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু গাজীপুর চৌরাস্তা নয়; টঙ্গী বাস স্টেশন, চান্দরা ও কোনাবাড়ী এলাকায় ২৪ ঘণ্টা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ছিনতাইকারী দল। অভিযোগ রয়েছে, এসব ছিনতাইকারীর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু নেতাকর্মীর ‘শেল্টার’ বা আশ্রয় রয়েছে। ‘অমুক ভাই-তমুক ভাই’ এর নাম ভাঙিয়ে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বিশেষ করে গ্রাম থেকে আসা নতুন মানুষদের টার্গেট করে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে এই সঙ্ঘবদ্ধ চক্র। একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পুলিশের টহল ও তৎপরতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাস্তা পার হতে ভয় লাগে, বাসে উঠতে ভয় লাগে। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?"
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার বলেন:
"গাজীপুরকে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। অপরাধ দমনে পুলিশ ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে সুফল পাওয়া যাবে। ছিনতাইকারীদের হাতেনাতে ধরে থানায় সোপর্দ করুন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
তবে সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল আশ্বাসে নয়, বরং রাজপথে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা ও রাজনৈতিক শেল্টারদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনলেই গাজীপুর নিরাপদ হবে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ