ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নি গ্রামের এক সময়ের সমৃদ্ধ ও জৌলুসপূর্ণ তাঁত শিল্প আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার যে পেশায় জীবিকা নির্বাহ করত, আজ সেখানে টিকে আছেন মাত্র চারজন তাঁতী। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, ন্যায্য মূল্যের অভাব এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে শতবর্ষের এই ঐতিহ্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় মুজগুন্নি গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে তাঁতের খটখট শব্দ ভেসে আসত। গ্রামটি গামছা তৈরির জন্য বিখ্যাত ছিল এবং এখান থেকে উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বাজারে কারখানায় তৈরি সস্তা পণ্যের আধিপত্য এবং সুতার দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় প্রান্তিক এই শিল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।
মুজগুন্নি গ্রামের প্রবীণ তাঁতী নুর মোহাম্মদ বর্তমান অবস্থার করুণ চিত্র তুলে ধরে বলেন:
“একটি গামছা তৈরি করলে মহাজন আমাদের মাত্র ২৫ টাকা দেন। সারা দিনে কষ্ট করে চারটি গামছা তৈরি করলে আয় হয় মাত্র ১০০ টাকা। এই সামান্য আয়ে বর্তমান বাজারে সংসার চালানো একেবারেই অসম্ভব। আমার বয়স হয়েছে, অন্য কাজ করতে পারি না বলেই পৈত্রিক এই পেশাটি আঁকড়ে ধরে আছি।”
শ্রমের তুলনায় মজুরি অত্যন্ত কম হওয়ায় নতুন প্রজন্ম এই কঠোর পরিশ্রমের পেশায় আর আগ্রহী হচ্ছে না। ফলে অধিকাংশ তাঁতী পরিবার তাদের পুরনো তাঁত ভেঙে ফেলে অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ঐতিহ্যপ্রেমীদের দাবি, সরকারি প্রণোদনা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদিত পণ্যের সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্পকে রক্ষা করা সম্ভব। অন্যথায়, মণিরামপুরের মানচিত্র থেকে অচিরেই চিরতরে মুছে যাবে ঐতিহ্যবাহী মুজগুন্নি গামছা ও তাঁতীদের গল্প।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ