ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী আলভী ও শাশুড়ি নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর পল্লবী থানায় ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে এই মামলা করেন। মামলার অভিযোগে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, দীর্ঘ দুই বছরের অবহেলা ও নির্যাতনের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
ইকরার বাবা কবির হায়াত খান একমাত্র সন্তানের এই মৃত্যুকে ‘হত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শোকে কাতর এই বাবা আলভী ও তাঁর মায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে বলেন, ‘আলভী ও তাঁর মায়ের প্ররোচনাতেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। আলভী একটা অসভ্য ছেলে, সে আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে।’
তিনি আরও জানান, ইকরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার পর তিনি এই বিয়েতে মত দেননি, কিন্তু আলভীর মা যোগসাজশ করে অল্পবয়সী ইকরাকে বিয়ে করিয়ে নিয়ে যান। সংসার টিকিয়ে রাখার তাগিদে ইকরা কখনো তাঁদের ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা মুখ ফুটে বলেনি।
ইকরার বাবার দাবি, আত্মহত্যার নেপথ্যে আলভীর একটি ফেসবুক পোস্ট বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আলভী কেন অন্য একটি মেয়েকে নিয়ে ইকরার সামনে নেপাল থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিল?’ আলভীকে নিয়ে ইকরার অনেক গর্ব ছিল, কিন্তু স্বামীর এমন আচরণ ও শাশুড়ির নির্যাতনে মেধাবী এই ছাত্রীর ক্যারিয়ার ও জীবন—সবই শেষ হয়ে গেল বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত আসামি যেহেতু বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন, তাই তিনি দেশে ফেরামাত্রই যেন গ্রেপ্তার করা যায়, সেজন্য বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশকে এজাহারের কপি পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেছিলেন আলভী ও ইকরা। তাঁদের সংসারে ‘রিজিক’ নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে। ইকরার মৃত্যুর পর স্বামীর পরকীয়া ও নির্যাতনের নানা তথ্য এবং চ্যাট ফাঁস হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। আজ সকালে ময়নাতদন্ত শেষে ময়মনসিংহের ভালুকায় পারিবারিক কবরস্থানে ইকরাকে সমাহিত করা হয়েছে।
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ