ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির রাজনৈতিক দৃশ্যপট আমূল বদলে যেতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত। জনপ্রিয় এই র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ব্যক্তিটি আগামী ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনের পর দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
নেপালে কোনো আনুষ্ঠানিক জনমত জরিপ না থাকলেও দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বালেন শাহকেই আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ বিপিন অধিকারী জানান, বালেনের জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী; এমনকি কাঠমান্ডুগামী বাসগুলোতে এখন লেখা থাকে—‘বালেনের শহরের পথে’। প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে র্যাপ গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া বালেন এখন নেপালের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও প্রথাগত রাজনৈতিক অভিজাততন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
বালেন শাহর দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি) একটি মধ্যপন্থি নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবেশী দুই বৃহৎ দেশ ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সেবা নিশ্চিত করে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। প্রথাগত সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে চলে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৩৫ লাখ অনুসারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখাই তার রাজনৈতিক সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
বিশ্লেষক পুরঞ্জন আচার্য মনে করেন, সংক্ষিপ্ত বার্তার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের বা 'জেন-জি'র সাথে সংযোগ স্থাপন করাই বালেনের বিশেষত্ব। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করা তার জন্য খুব একটা সহজ হবে না। হিমালয়ঘেরা এই দেশটির রাজনীতিতে যেখানে ভারত ও চীনের প্রভাব স্পষ্ট, সেখানে নতুন এই নেতৃত্ব কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে এবং পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা মোকাবিলা করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ