গতকাল পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৮) হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত নৃশংসতা ও লোমহর্ষক নেপথ্য কাহিনী উন্মোচন করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, মূল অভিযুক্ত স্বামী জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে জানালার গ্রিল কেটে পেছনের রাস্তা দিয়ে পালানোর সুযোগ করে দিতেই দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটের মূল দরজা ভেতর থেকে লক করে রেখেছিল তার স্ত্রী স্বপ্না।
ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গতকাল মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতকেরা শিশুটিকে হত্যার পর তার মাথা কেটে শৌচাগারে এবং শরীরের মূল অংশটি খাটের নিচে লুকিয়ে রেখেছিল।
তদন্তে জানা যায়, নিহত রামিসার পরিবার ওই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসে। গতকাল সকালে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার মা ওই দম্পতির ফ্ল্যাটের দরজার সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। রামিসার মা যখন দরজায় অনবরত কড়া নাড়ছিলেন ও আকুতি করছিলেন, ঠিক তখনই ভেতরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটছিল। মূল অপরাধী জাকির যাতে পেছনের জানালার গ্রিল কেটে পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না ইচ্ছা করে দীর্ঘক্ষণ দরজা খোলেনি। দরজা খোলে জাকির পালিয়ে যাওয়ার পর।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও আলামত বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে চরম যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই জঘন্য অপরাধ গোপন করা এবং মরদেহ সম্পূর্ণ গুম করে ফেলার উদ্দেশ্যেই লাশটি খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করে পেশায় রিকশা মেকানিক জাকির। তবে রামিসার মা ঠিক সময়ে দরজার সামনে চলে আসায় খুনিরা তাদের পুরো পরিকল্পনা সফল করতে পারেনি এবং মাথা বিচ্ছিন্ন করার পরই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই ফ্ল্যাট থেকে স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায় মূল আসামি জাকির নারায়ণগঞ্জে আত্মগোপন করেছে। সেখানে একটি বিকাশের দোকান থেকে বন্ধুর পাঠানো টাকা তোলার সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডির ফরেনসিক দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে সব আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের ছাত্রী ছিল। এই ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি করতে তদন্ত চলছে।