ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের সামরিক প্রধান নিহত

প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের সামরিক প্রধান নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডের বর্তমান প্রধান মোহাম্মদ ওদেহ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। গাজা সিটিতে চালানো এক বিধ্বংসী বিমান হামলায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে আজ বুধবার (২৭ মে ২০২৬) ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে কাসসাম ব্রিগেড প্রধানের নিহত হওয়ার এই চাঞ্চল্যকর দাবির বিষয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, গতকাল মঙ্গলবার গাজা সিটির একটি নির্দিষ্ট এলাকা লক্ষ্য করে এই সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ওদেহ এবং তাঁর সহযোগীদের নিখুঁত গতিবিধি শনাক্ত করতে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে গভীর গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল।

হামাসের সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান চলতি মে মাসের শুরুর দিকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়া ইজ্জুদ্দিন আল-হাদ্দাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কাসসাম ব্রিগেডের প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। যদিও হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়োগের বিষয়টি কখনও প্রকাশ করেনি।

অভিযানের পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় লিখেছেন, “গাজায় হামাসের সামরিক শাখার চতুর্থ শীর্ষ কমান্ডারকে গতকাল নির্মূল করা হয়েছে এবং তাকে তার সঙ্গীদের সঙ্গে নরকের গভীরে পাঠানো হয়েছে।” এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ যৌথভাবে ওদেহকে লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালানোর বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবহিত করেছিলেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের ঐতিহাসিক ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ হামলার মূল পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন মোহাম্মদ ওদেহ। তিনি কাসসাম ব্রিগেডের শেষ সারির অন্যতম জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ছিলেন, যিনি শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ পরিচালনা আসছিলেন।

২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় সহিংসতা ও গুপ্তহত্যা পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৯০৬ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।

এর আগে দীর্ঘ সংঘাতের সময়ে হামাসের একের পর এক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হামাসের সাবেক রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া, গাজার সুপ্রিম লিডার ইয়াহইয়া সিনওয়ার, কাসসাম ব্রিগেডের দীর্ঘদিনের প্রধান মোহাম্মদ দেইফ এবং পরবর্তী প্রধান মোহাম্মদ সিনওয়ার। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৮০৩ জনে।

সূত্র: আল জাজিরা

মন্তব্য করুন