সংগৃহীত ছবি
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীসহ সারা দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং ১ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। এ নিয়ে গত ৭২ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ জনে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন ও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই হিসাব সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, গত ৭২ দিনে মারা যাওয়া ৫৫৫ জনের মধ্যে ৪৬৭ জন শিশু মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং বাকি ৮৮ জন মারা গেছে ল্যাব টেস্টে হাম শনাক্ত হওয়ার পর।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ জনই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ১ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে দেশে হামের সংক্রমণ ও হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৮৩ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৪৫ জন শিশু। আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির দিক থেকেও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ; যেখানে নতুন করে ৩৬৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরপর যথাক্রমে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১৫৭ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
অবশ্য একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ১ হাজার ১৮১ জন শিশু হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৭২ দিনে দেশজুড়ে মোট ৬৬ হাজার ২৩ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৮ হাজার ৭৭২ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এ পর্যন্ত ৫২ হাজার৫৩০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে মোট ৪৮ হাজার ৮০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা শিশুদের শরীরে হামের লক্ষণ (যেমন: তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ, সর্দি-কাশি) দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।