গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ত্যাগের উৎসব ঈদুল আজহা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ণ
গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ত্যাগের উৎসব ঈদুল আজহা

মোঃ ইসতিয়াক আহম্মদ আসিফ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত বহন করে। আধুনিক ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে ঈদুল আজহা শুধু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের অন্তরের কলুষতা দূর করে আত্মশুদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের কাছেও ঈদুল আজহা কেবল আনন্দের উৎসব নয়; বরং এটি আত্মসংযম, ত্যাগের মানসিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা উপলব্ধির এক বিশেষ সময়। ঈদকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের এমন নানামুখী অনুভূতি ও ভাবনার প্রতিফলন তুলে ধরা হলো:

১. ত্যাগের শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির বার্তা সারা বছরের পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট ও ক্লাসের ব্যস্ত রুটিনের মাঝে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার আনন্দ যেন সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের যখন নিজ নিজ বাড়িতে ফেরে, তখন প্রাণচঞ্চল ক্যাম্পাসেও নেমে আসে নীরবতা। ঈদের আনন্দ একা উপভোগ করার মধ্যে প্রকৃত সার্থকতা নেই; বরং পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং দরিদ্র মানুষের সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত। কোরবানি আমাদেরকে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান ত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই শিক্ষা থেকেই মানুষ অনুপ্রাণিত হয় নিজের অহংকার, স্বার্থপরতা ও অন্তরের পশুত্বকে কোরবানি দিতে।

 — শেখ মো: সালমান ফার্সি, শিক্ষার্থী, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।

২. সাম্য ও ত্যাগের অনন্য উৎসব ঈদুল আজহা শুধু ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ত্যাগ, মানবতা, সাম্য ও ভালোবাসার এক গভীর জীবনদর্শন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও সাম্যের চেতনা আরও দৃঢ় হয়। বর্তমান বিশ্বে যখন বিভেদ ও স্বার্থপরতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন ঈদুল আজহার শিক্ষা আমাদের মানবিক মূল্যবোধে ফিরে যেতে অনুপ্রাণিত করে। এই উৎসব আমাদের শেখায়, প্রকৃত সুখ নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই জীবনের সত্যিকারের আনন্দ নিহিত।

 — লাবিবা তাসফিয়া, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।

৩. কোরবানির চেতনায় জীবন দর্শন দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে পড়াশোনা ও ব্যস্ততার কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদের ছুটি যেন এক টুকরো প্রশান্তি হয়ে আসে। ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ির পথে যাত্রা শুধুই ঘরে ফেরা নয়, বরং মা-বাবার সান্নিধ্যে ফিরে যাওয়ার এক গভীর অনুভূতি। কোরবানির মূল শিক্ষা যেমন ত্যাগ ও আত্মসমর্পণ, তেমনি শিক্ষার্থীদের জীবনেও এটি দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা জাগ্রত করে। মানুষের ভেতরে মানবতা, বিনয় ও সহমর্মিতার চর্চা আরও দৃঢ় হোক। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ যত বড়ই হোক, ঈদের সময় সে আবার পরিবারের কাছেই ফিরে আসে। মানবসভ্যতার সবচেয়ে পুরোনো “সফটওয়্যার আপডেট” সম্ভবত এটিই।

 — মো: মনিরুল ইসলাম খান নূর, শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ।

৪. আপনজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি আমরা যারা গোবিপ্রবির শিক্ষার্থী, তারা বছরের দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকি। তাই ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার আনন্দ আমাদের কাছে অন্যরকম এক আবেগে রূপ নেয়। বাড়ি ফেরা মানেই যেন নতুন করে জীবনের স্বাদ খুঁজে পাওয়া—পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, মা-বাবার স্নেহে ভরা মুহূর্তগুলো উপভোগ করা এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা হওয়া। এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই ঈদকে আমাদের জীবনে আরও বিশেষ ও অর্থবহ করে তোলে। সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্যেই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত।

 — রাফিয়া তাবাসসুম রিনিক, শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ।

৫. জীবনে ত্যাগের গুরুত্ব ও বাস্তবতা একজন শিক্ষার্থীর জীবনে এই ত্যাগের অন্যতম বড় প্রকাশ ঘটে নিজের আরাম-আয়েশ ও আলস্য ত্যাগ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার নিরন্তর প্রচেষ্টায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বাস্তবতায় এসে অনেক সময় এই উৎসবের চিত্র বদলে যায়। একাডেমিক চাপ, পরীক্ষা কিংবা দূরত্বের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে পরিবার থেকে দূরে মেস বা হলের চার দেয়ালে বন্ধুদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে হয়। আপনজনদের ছেড়ে সীমিত পরিসরে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং সহনশীল হতে শেখায়।

 — মোহা: শহিদুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন