আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রাজ্যটি। তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের দখল নিতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এখন রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়—কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচনী প্রচারণায় একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিজেপি জিতলে কোনো বহিরাগত নয়, বরং একজন ‘ভূমিপুত্র’ বা বাঙালিই হবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে সুকান্ত মজুমদারের ‘আমিষভোজী’ মুখ্যমন্ত্রী সংক্রান্ত মন্তব্যটিও বেশ আলোচিত হয়েছে, যা ছিল মূলত তৃণমূলের ‘মাছ-মাংস নিষিদ্ধের’ অপপ্রচারের পাল্টা জবাব।
বিজেপির অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য যে নামগুলো সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে:
বিজেপি এবার তাদের প্রচারণায় ‘নারীর নিরাপত্তা’ ও ‘সন্দেশখালি’ ইস্যুকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তাই ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে কোনো নারীকে মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুই দাপুটে নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও রূপা গাঙ্গুলীর নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে রূপা গাঙ্গুলী ‘মহাভারত’-এর দ্রৌপদী হিসেবে সারা ভারতে জনপ্রিয় এবং তাঁর লড়াকু ভাবমূর্তি দলের সম্পদ।
তৃণমূলের প্রাক্তন হেভিওয়েট এবং ২০২১-এ নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী এই দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। মেদিনীপুরসহ রাজ্যজুড়ে তাঁর সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক এবং তৃণমূলের রণকৌশল সম্পর্কে তাঁর ধারণা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরনো কিছু আইনি অভিযোগ হাই কমান্ডের জন্য বিবেচ্য বিষয় হতে পারে।
রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য আরএসএস (RSS) ঘরানার মানুষ এবং অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা। দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় রক্ষায় তাঁর সুনাম রয়েছে। যদি দল কোনো বিতর্কহীন ও বুদ্ধিজীবী মুখ চায়, তবে সমিক ভট্টাচার্য হতে পারেন সেরা পছন্দ।
রাজ্য বিজেপির উত্থানের কারিগর হিসেবে পরিচিত দিলীপ ঘোষের বিশাল জনভিত্তি রয়েছে। সাধারণ কর্মীদের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। অন্যদিকে তরুণ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক উত্তরবঙ্গের বড় শক্তির প্রতীক, যাকেও মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য বিবেচনায় রাখা হতে পারে।
বিজেপি সাধারণত নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী প্রজেক্ট করে না; বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ইউএসপি’-তেই ভোট বৈতরণী পার করে। এখন ঐতিহাসিক জয়ের পর দিল্লির হাই কমান্ড নবান্নে কাকে পাঠায়, সেটিই দেখার বিষয়। এমন কাউকে বেছে নেওয়া হবে যিনি মমতা-পরবর্তী বাংলায় বিজেপির আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী করতে পারবেন।