ঈমান ও ভালোবাসা

আমিরুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ণ
ঈমান ও ভালোবাসা

নাজমুল হুদা মজনু: ক্ষণিকের এই দুনিয়ায় মানুষের মনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অফুরান ভালোবাসা গেঁথে দিয়েছেন। আদর, স্নেহ ও মমতার এই সেতুবন্ধন আল্লাহ তায়ালার এক অনন্য দান। বাবা-মা, সন্তান-সন্ততি ও স্বজনদের এই অনুপম ভালোবাসার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা সত্যিই দুরূহ। ভালোবাসা হলো রাহমানুর রাহিমের এক অনন্ত অপার দয়া।

মানসিকভাবে কাউকে ভালো লাগার নাম ভালোবাসা হলেও, নশ্বর সৃষ্টির চেয়ে অবিনশ্বর স্রষ্টার ভালোবাসা বান্দার জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে সুনিপুণভাবে সৃষ্টি করে এবং অগণিত নিয়ামত দান করে তাঁর সীমাহীন ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। সেই মহান আল্লাহকে ভালো না বেসে প্রকৃত ঈমান অর্জন অসম্ভব।

নিবন্ধে লেখক নিজের রচিত একটি কবিতার অংশ তুলে ধরেছেন— "পুণ্যময় সত্তার সুন্দর সৃষ্টিতে কত লাবণ্য / আসমান জমিন চাঁদ সূর্য গায় ধন্য ধন্য। / বিশ্বটাকে গড়েছেন মহাশক্তিতে মজবুত / নিজের নিপুণ শৈলীতে করেছেন নিখুঁত।"

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের ১০টি কার্যকরী উপায় উল্লেখ করেছেন: ১. অর্থসহ গভীরভাবে কুরআন তিলাওয়াত। ২. নফল ইবাদতের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ। ৩. সর্বদা জিকিরে জবান ও অন্তর সিক্ত রাখা। ৪. নিজের ইচ্ছার চেয়ে আল্লাহর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া। ৫. আল্লাহর গুণবাচক নাম ও মহিমা নিয়ে গবেষণা। ৬. আল্লাহর দৃশ্য ও অদৃশ্য নিয়ামত নিয়ে চিন্তা করা। ৭. আল্লাহর দরবারে একান্ত কাকুতি-মিনতি। ৮. শেষ রাতে নির্জনে ইবাদত ও ক্ষমা প্রার্থনা। ৯. সৎ ও নেককার বান্দাদের সাহচর্যে থাকা। ১০. অন্তরের পবিত্রতা নষ্টকারী সব কাজ থেকে দূরে থাকা।

আল্লাহর ভালোবাসার অন্যতম দাবি হলো তাঁর রাসূলকে (সা.) ভালোবাসা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, "তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে (রাসূলকে) অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।" (আলে-ইমরান: ৩১)। সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী, যতক্ষণ পর্যন্ত রাসূল (সা.) আমাদের কাছে নিজের জীবন ও পরিবারের চেয়ে অধিক প্রিয় না হবেন, ততক্ষণ ঈমান পূর্ণতা পাবে না।

লেখক: সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন