নোয়াখালীতে বিমানবন্দরসহ ৪৯৮ প্রস্তাব ডিসিদের

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ণ
নোয়াখালীতে বিমানবন্দরসহ  ৪৯৮ প্রস্তাব ডিসিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন সরকারের অধীনে প্রথম ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬’ শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার (৩ মে)। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং রংপুর বিভাগে ১০০০ শয্যার সরকারি হাসপাতাল স্থাপনসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৪৯৮টি প্রস্তাব পেশ করবেন।

শনিবার (২ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন সমন্বয়) মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত সচিব জানান, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের পাঠানো ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে জনস্বার্থ বিবেচনায় ৪৯৮টি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় তিনটি প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। গাজীপুরের ডিসি শিল্পকারখানা নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তরের জন্য সেখানে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। নোয়াখালীর ডিসি সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। এছাড়া রংপুর বিভাগীয় কমিশনার ১০০০ শয্যার একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতালের প্রস্তাব করেছেন।

এবারের সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কার, সব দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা, কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়ন এবং চা-বাগান এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন।

সম্মেলনের সূচি ও কার্যক্রম: রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন। ৩ মে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে, ৪ মে জাতীয় সংসদে স্পিকারের সাথে এবং ৫ মে সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন জেলা প্রশাসকরা। এছাড়া নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সাথেও বিশেষ অধিবেশন রয়েছে।

প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ: সম্মেলনের ৩০টি কার্য-অধিবেশনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবা, পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, বর্তমান সরকারের এই প্রথম ডিসি সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দেশের তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে নোয়াখালীবাসীর বিমানবন্দর ও রংপুরের বৃহৎ হাসপাতালের দাবি পূরণ হলে তা হবে এই সম্মেলনের অন্যতম বড় অর্জন। সচিবালয়ের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত বছরের ডিসি সম্মেলনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৪ শতাংশ, যা এবার আরও গতিশীল করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন