প্রকৃতি ডেস্ক: ঘরের কোণে কিংবা বারান্দায় এক চিমটি নান্দনিকতার ছোঁয়া দিতে ইনডোর প্ল্যান্টের জুড়ি নেই। আর সেই গাছটি যদি হয় বৈচিত্র্যময় পাতার ‘স্টার বেগোনিয়া’, তবে তো কথাই নেই। মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার আদি নিবাসী এ উদ্ভিদটি তার অসাধারণ পাতার গঠন এবং সহজ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশ্বজুড়ে বৃক্ষপ্রেমীদের কাছে সমাদৃত। ময়মনসিংহের কাচারিঘাটের বিভিন্ন নার্সারিসহ দেশের নানা প্রান্তের ছাদবাগান ও ঘর সাজাতে এখন এই গাছের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
বিশেষ আকৃতির তারার মতো পাতার কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে স্টার বেগোনিয়া। বিরুৎ জাতীয় এই উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম Begonia heracleifolia, যা মূলত 'Begoniaceae' পরিবারের একটি সদস্য। এটি একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ, যার পাতাগুলো গভীরভাবে খাঁজকাটা বা খণ্ডিত থাকে— দেখতে অনেকটাই ম্যাপল গাছের পাতার মতো। সাধারণত এই গাছের ঝোপ ২ ফুট পর্যন্ত লম্বা এবং ৪ ফুট পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। এর একেকটি পাতা ১৫ ইঞ্চি চওড়া ও ১ ফুট লম্বা হয়। পাতার উপরিভাগ গাঢ় সবুজ থেকে ব্রোঞ্জ রঙের এবং নিচের দিকটা হালকা লালচে বা বেগুনি আভার হয়ে থাকে। পাতার শিরাগুলো রুপালি বা হালকা সবুজ রঙের হওয়ায় পাতায় একটি চমৎকার মার্বেল বুনন তৈরি হয়। শীতের শেষ দিকে বা বসন্তের শুরুতে এই গাছে লম্বা ডাঁটার মাথায় ছোট ছোট হালকা গোলাপি বা সাদা রঙের ফুল গুচ্ছাকারে ফোটে। তবে ফুলের চেয়ে এর পাতার সৌন্দর্যই বিশ্বজুড়ে বেশি সমাদৃত।
সহনশীল প্রকৃতি এই গাছ খুব সহজেই যেকোনো পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং অল্প আলোতেও চমৎকারভাবে বেঁচে থাকে। ঝোপালো গঠন এর রাইজোম বা মাটির নিচের কাণ্ড থেকে অনবরত নতুন নতুন চারা গজায়, যা গাছটিকে দ্রুত ঝোপালো ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলে।
স্টার বেগোনিয়া সামান্য যত্ন পেলেই দীর্ঘকাল গৃহকোণকে সজীব রাখে। তবে এর সুস্থ বৃদ্ধির জন্য কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি:
এই গাছ সরাসরি কড়া রোদ একদম পছন্দ করে না। উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলো (Indirect Sunlight) এর জন্য সবচেয়ে ভালো। ঘরের জানালার পাশে যেখানে হালকা আলো-বাতাস আসে, সেখানে এটি ভালো বাড়ে। পানি প্রয়োগ: টবের মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই পানি দিতে হবে। অতিরিক্ত পানি দিলে এর মাটির নিচের কাণ্ড বা রাইজোম পচে গাছ মরে যেতে পারে। পানি দেওয়ার সময় পাতার ওপর সরাসরি পানি না ফেলে গোড়ায় দেওয়া ভালো, এতে পাতায় দাগ পড়ার ঝুঁকি থাকে না। আর্দ্রতা বেগোনিয়া আর্দ্র পরিবেশ পছন্দ করে। ঘরের বাতাস খুব বেশি শুষ্ক হলে টবের নিচে নুড়িপাথর ও পানিভর্তি একটি ট্রে রাখা যেতে পারে।
স্টার বেগোনিয়ার বংশবৃদ্ধি করা বেশ সহজ। সাধারণত রাইজোম (কন্দ) বিভাজন এবং পাতার কাটিং— এই দুই পদ্ধতিতে এর চারা তৈরি করা যায়। গাছের গোড়ার কন্দ ভাগ করে অন্য টবে লাগালেই নতুন গাছ হয়। আবার একটি সুস্থ পাতা বোঁটাসহ কেটে বালি বা পানিতে রেখে দিলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শিকড় গজায়।
বাড়িতে বিড়াল বা কুকুরের মতো পোষা প্রাণী থাকলে কিছুটা সতর্ক হতে হবে, কারণ স্টার বেগোনিয়া প্রাণীদের জন্য সামান্য বিষাক্ত। তাই এটি পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখাই শ্রেয়। এছাড়া গাছে মাঝে মাঝে মিলিবাগ বা মাকড়সার আক্রমণ হতে পারে, যা সামান্য নিম তেল স্প্রে করলেই সহজে দূর হয়ে যায়। নতুন কিংবা অভিজ্ঞ সব ধরনের বাগানীদের জন্য বারান্দা বা ঘরের কোণ সাজাতে স্টার বেগোনিয়া হতে পারে একটি চমৎকার পছন্দ।
জান্নাত/সকালবেলা