বাসা থেকে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা, ওসিকে ফোনের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ণ
বাসা থেকে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা, ওসিকে ফোনের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের এক নেতাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রূপগঞ্জ থানা-পুলিশের বিরুদ্ধে।

গতকাল বিকেলে উপজেলার বরাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলা যুবলীগের ক্রীড়া সম্পাদক খোকন পারভেজকে আটক করা হয়। রূপগঞ্জ থানার এসআই আবু সাদেক ও এসআই শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে খোকন পারভেজের বাসায় অভিযান চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে, বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। তবে আটকের পর খোকন পারভেজ রূপগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে থানায় না নিয়ে ঘটনাস্থলেই রেখে চলে যান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রেনু আক্তার ও রুহুল আমিন জানান, খোকন পারভেজকে পুলিশ সরাসরি তাঁর বাসা থেকেই আটক করেছিল, কিন্তু পরে ওসির সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়ার পরপরই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই আবু সাদেক যুবলীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসায় না থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। যদিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার এক পুলিশ সদস্য ওসির নির্দেশে আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন। 

এদিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, গত দুই মাস ধরে মাসিক তিন লাখ টাকার বিনিময়ে থানার ওসির সঙ্গে সমঝোতা করে এলাকায় ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করছেন খোকন পারভেজ।

ওই ব্যক্তির দাবি, এর আগে ‘নাইম ক্যাবলস’ নামের ডিশ ও নেট ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এই ৩ লাখ টাকা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাসোহারা দেওয়া হতো। বর্তমানে থানায় লিয়াজোঁর মাধ্যমে ব্যবসাটি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে মাসিক তিন লাখ টাকা লেনদেন বা থানার সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ ‘গ’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, অভিযুক্ত নেতাকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ঘটনার পেছনে কোনো পুলিশ সদস্যের অবহেলা বা জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন