গাজীপুরে পোশাক কারখানায় দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু

মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক: গাজীপুরের শ্রীপুরে কারখানায় রাতভর অতিরিক্ত কাজ করানোর পর অসুস্থ হয়ে দুই নারী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন ও আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘কালার এন্ড কোং লিমিটেড’ কারখানার সামনে এই শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয়।

নিহত দুই শ্রমিক হলেন— লিজা আক্তার ও শোভা।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, লিজা আক্তার নামের ওই নারী শ্রমিক গত বুধবার তীব্র অসুস্থতা বোধ করলে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাঁকে রাতভর অতিরিক্ত সময় (ওভারটাইম) কাজ করতে বাধ্য করে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ডিউটিরত অবস্থাতেই লিজা গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই রাতে কারখানার ভেতরে শোভা নামে আরও এক নারী শ্রমিক অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহকর্মীরা জানান, মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য মাওনা চৌরাস্তার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁরও মৃত্যু হয়।

অসুস্থ শ্রমিককে ছুটি না দিয়ে কাজ করানো এবং দুই সহকর্মীর মৃত্যুর খবর আজ সকালে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সকাল ৮টার দিকে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে শতাধিক শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন। এতে প্রায় ৩ ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে এবং সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

আশিক নূর নামে এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল ৮টায় কাজ শুরু হয়ে অনেক সময় রাত ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত আমাদের খাটানো হয়। এরপরও পরদিন ঠিক সকাল ৮টায় কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অমানুষিক খাটুনির ফলে শ্রমিকরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন।” এছাড়া প্রতিবাদ করলে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও শ্রমিকরা অভিযোগ করেন।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলে সকাল ১১টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শ্রমিকদের আন্দোলনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। বর্তমানে কারখানার পরিবেশ ও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। একজন নারী শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, অন্যটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে কালার এন্ড কোং লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল কারও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং কারখানার অমানুষিক কর্মপরিবেশ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন