দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের স্ত্রীকে ৭ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের স্ত্রীকে ৭ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অর্থের বিনিময়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এবং উপহার হিসেবে বিলাসবহুল সামগ্রী গ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতির দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের স্ত্রী কিম কিউন-হিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন এই রায় ঘোষণাটি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

রায় ঘোষণা করতে গিয়ে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক বলেন, সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিউন-হি অনৈতিক উপায়ে প্রভাব খাটিয়ে এমন সব বিলাসবহুল সামগ্রী ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে এবং এটি গুরুতর প্রশাসনিক অপরাধ।

সাবেক এই প্রেসিডেন্ট দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ প্রসিকিউশন দল কিমের সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। তবে রায় ঘোষণার পর কিম কিউনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন।

আদালতের নথিসূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তার জামাতাকে উচ্চপদস্থ সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়ার বিনিময়ে একটি মূল্যবান নেকলেস, একটি ব্রোচ ও কানের দুল গ্রহণ করেছিলেন কিম। এ ছাড়া ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সাবেক প্রধানের কাছ থেকে স্বর্ণের কচ্ছপের প্রতিকৃতি এবং একই বছরের সেপ্টেম্বরে একজন রোবট কুকুর উদ্যোক্তাকে ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে একটি দামি হাতঘড়ি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—মনোনয়ন সুপারিশের বিনিময়ে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে একজন যাজকের কাছ থেকে একটি ডিজাইনার হাতব্যাগ (লাক্সারি ব্যাগ) এবং ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একজন সাবেক প্রসিকিউটরের কাছ থেকে একটি নামি চিত্রকর্ম গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এর বাইরে ২০২৩ সালে পিপল পাওয়ার পার্টির জাতীয় সম্মেলনের আগে ইউনিফিকেশন চার্চের সদস্যদের গণহারে একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার নামে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম আটক হন কিম কিউন-হি। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে তিনিই প্রথম কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টের স্ত্রী, যিনি সরাসরি ফৌজদারি অপরাধে বিচারের সম্মুখীন হয়ে দণ্ডিত হলেন। এর আগে গত এপ্রিলে শেয়ারের দামে কারসাজি ও দুর্নীতির অন্য একটি মামলায় নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে কিম কিউনের কারাদণ্ড ২০ মাস থেকে বাড়িয়ে চার বছর করেছিলেন সিউল হাইকোর্ট।

মন্তব্য করুন