মদনে মুয়াজ্জিনকে রাজকীয় বিদায়

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ণ
মদনে মুয়াজ্জিনকে রাজকীয় বিদায়

মোঃ সাকের খান, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় (১৩ বছর) ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যাওয়া এক প্রবীণ মুয়াজ্জিনকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় এলাকাবাসী। বিদায়বেলায় তাঁকে সম্মান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এককালীন মোটা অঙ্কের আর্থিক অনুদান, সম্মাননা ক্রেস্ট ও নানা উপহার। প্রিয় মুয়াজ্জিনকে শেষ বিদায় জানাতে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধভাবে ভিড় জমান শত শত সাধারণ মানুষ।

নেত্রকোনার মদন উপজেলার মড়িউদ্দিন মার্কেট জামে মসজিদে এই ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। বিদায়ী মুয়াজ্জিনের নাম সুলতু মিয়া। তিনি মদন পৌর সদরের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মুয়াজ্জিনতির পাশাপাশি তিনি স্থানীয় পোস্ট অফিসেও কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও সুলতু মিয়া অত্যন্ত সুনামের সাথে সঠিক সময়ে আজান দেওয়া এবং মুসল্লিদের সাথে চমৎকার ও সদাচরণ করতেন। তাঁর এই দীর্ঘদিনের সেবা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতেই মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী রাজকীয় বিদায়ের এই অভিনব উদ্যোগ নেন।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের একটি বিশাল বহর ও শোভাযাত্রা নিয়ে রাজকীয়ভাবে প্রায় ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মুয়াজ্জিন সুলতু মিয়াকে তাঁর নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন মুসল্লিরা। পথে যাওয়ার সময় রাস্তার দুপাশের মানুষ হাত নেড়ে ও ফুল ছিটিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

বিদায়ের পর পরিবার নিয়ে যেন তিনি শেষ জীবনটা ভালোভাবে কাটাতে পারেন, সেই চিন্তা থেকে মসজিদ কমিটি ও সকল সাধারণ মুসল্লির পক্ষ থেকে তাঁর হাতে এককালীন নগদ আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

এমন সম্মান ও ব্যতিক্রমী বিদায় পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধ মুয়াজ্জিন সুলতু মিয়া। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “পবিত্র আল্লাহর ঘরের একজন খাদেমকে এই মার্কেটের ব্যবসায়ী ও মুসল্লিরা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।” এ সময় তিনি সবার দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন।

মড়িউদ্দিন মার্কেট জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আল মুনসুরুল আলম আরিফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল ফকিরের সঞ্চালনায় বিদায়ী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাজেদুল হক সাজু, মসজিদের সাবেক ইমাম সাইফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী শফিকুল আলম ও হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আল মুনসুরুল আলম আরিফ বলেন, “আমাদের সমাজে সাধারণত ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা অবহেলিত থাকেন। অনেক সময় বৃদ্ধ বয়সে এসে তারা অসহায় হয়ে পড়েন। আমাদের এই উদ্যোগ সমাজে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মুয়াজ্জিন সাহেবের পরবর্তী জীবন যাতে সচ্ছলভাবে কাটে, সেজন্য আমরা সাধ্যমতো আর্থিক অনুদান দিয়েছি। উনাকে সম্মানজনকভাবে বিদায় দিতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি। দেশের প্রতিটি মসজিদ কমিটিরই উচিত তাদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের শেষ বয়সে এভাবে সম্মান জানানো।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন