আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কুলাউড়ায় বনভূমির গাছ কর্তন

প্রকাশ: শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ণ
আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কুলাউড়ায় বনভূমির গাছ কর্তন

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেঞ্জাধীন বরমাচল বিটের ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেস্টের (ব্লক-২) প্রায় ১৫০ একর সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা (Status Quo) অমান্য করে অবাধে বন দখল, গাছ কর্তন এবং জমি উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একশ্রেণীর প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের প্রত্যক্ষ মদদে খাসিয়া সম্প্রদায়ের একটি অংশ এই দখল প্রক্রিয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সংবাদের ভিত্তিতে কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে ইউপি সদস্য চন্দন কুর্মি ও ইচ্ছালছড়া পান পুঞ্জির প্রধান (মন্ত্রী) লিডিয়া পিয়া গাছ কাটার কথা অস্বীকার করলেও এসিল্যান্ড দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে তাজা গাছ কেটে সুপারি চারা রোপণসহ বন উজাড়ের স্পষ্ট আলামত পান। তবে অভিযানকালে বন বিভাগের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি এবং সুনির্দিষ্ট অপরাধীদের হাতেনাতে না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদান সম্ভব হয়নি।

নথি ও পুলিশ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে (স্বত্ব মামলা নং- ১৮৫/২০২২) জমিটি নিয়ে মামলা বিচারাধীন এবং বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, আদালতের আদেশ তোয়াক্কা না করে ইচ্ছালছড়া পান পুঞ্জির হরলাল পথাং, লিডিয়া পিয়া, আলফায়েস পথাং ও জনি সিঙ্গাসহ একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে এবং বন কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ নিয়ে বরমাচল বিট কর্মকর্তা মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বারবার থানায় জিডি করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস জানান, বন উজারের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং আদালতের আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুলাউড়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, আদালতের নির্দেশে পুলিশ অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার স্পষ্ট জানান, সরকারি রিজার্ভ বনভূমি দখল বা আদালতের আদেশ অমান্যের কোনো সুযোগ নেই; জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রেঞ্জ কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ পর্যাপ্ত জনবল ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরে জানান, জীবনঝুঁকি সত্ত্বেও প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় তারা কাজ করছেন। বন বিভাগের জনবল সংকট ও প্রভাবশালীদের ছায়ায় ভূমিদস্যুদের এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন