৫০ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড স্থায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশটিতে বেআইনিভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রধানত আফ্রিকা মহাদেশের ৩০টি সহ বিশ্বের মোট ৫০টি দেশের নাগরিকদের ওপর সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য ‘ভিসা বন্ড’ জমা দেওয়ার নিয়মটি স্থায়ী করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
শুক্রবার প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টারের একটি অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই আইনের আওতায় কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিক যখন যুক্তরাষ্ট্রে বি১ (ব্যবসা) কিংবা বি২ (পর্যটন) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তখন কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে শর্ত হিসেবে আবেদনকারীকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ বন্ড হিসেবে জমা দিতে বলতে পারবেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বন্ডের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ধার্য হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে চালু করা ‘ভিসা বন্ড পাইলট বা পরীক্ষামূলক কর্মসূচি’ সফলতা পাওয়ায় এটিকে নিয়মিত আইন হিসেবে স্থায়ী করা হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ডের নিয়ম থাকলেও চূড়ান্ত বা নতুন নিয়মে ৫ হাজার ডলারের সর্বনিম্ন বিকল্পটি বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ডলার।
আগামী ৩ আগস্ট থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। ৫০টি দেশের তালিকায় আফ্রিকা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল ও ভুটানের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, এই কঠোর ভিসা বন্ড নীতির মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িক প্রবেশাধিকার পাওয়া কোনো বিদেশি নাগরিক যেন ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর দেশটিতে বেআইনিভাবে স্থায়ী না হয়ে যান। বন্ডের মাধ্যমে ভ্রমণকারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত হবে।
তবে বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগ ও সমালোচনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন মানবাধিকার ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে গ্রহণ করা এই নিয়মটি অতি ব্যয়বহুল হওয়ায় বৈধ ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণকারীদের নিরুৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে বিশেষ কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু দেশের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে বলেও মনে করছেন তাঁরা।
আইন প্রণেতা ও মানবাধিকারকর্মীদের সমালোচনার বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন অনড় অবস্থানে থেকে দাবি করেছে—জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ পুরোপুরি রুখে দিতেই এই পদক্ষেপে হাঁটা হয়েছে।
|