'বন্দে মাতরম' বাধ্যতামূলক করায় ক্ষুব্ধ ভারতীয় মুসলিমরা

প্রকাশ: শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ণ
'বন্দে মাতরম' বাধ্যতামূলক করায় ক্ষুব্ধ ভারতীয় মুসলিমরা

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'-কে আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা এবং এর প্রতি অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির মুসলিম সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের নাগরিকদের সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের ওপর প্রত্যক্ষ আঘাত।

সম্প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়া ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল-২০২৬’ অনুযায়ী, জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'-এর প্রতি ইচ্ছাকৃত অনাদর বা গাওয়ায় বাধা সৃষ্টিকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই সংশোধনীতে গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ মন'-এর সমান আইনি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যেখানে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়।

এ বিষয়ে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এ ধরনের আইন দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো, সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

একই সুর মিলিয়ে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি আরশাদ মাদানি বলেন, এই বিলটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংবিধানের মৌলিক নীতির বিরোধী। এটি মূল সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল ছাড়া কিছুই নয়।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের মুখপাত্র ড. এস. কিউ. আর. ইলিয়াস মনে করিয়ে দেন, সংবিধান প্রণয়নের সময়েই গণপরিষদ দীর্ঘ পর্যালোচনার পর 'বন্দে মাতরম'-এর কেবল প্রথম দুটি স্তবক গ্রহণ করেছিল। কারণ গানটির পরবর্তী অংশগুলোর ধর্মীয় উপাসনামূলক বার্তা ভারতের বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।

অন্যদিকে আরশাদ মাদানি আরও স্পষ্ট করে বলেন, "কারো ব্যক্তিগতভাবে 'বন্দে মাতরম' গাওয়া নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে একজন একনিষ্ঠ মুসলিম কেবল সৃষ্টিকর্তারই ইবাদত করেন। গানটির কিছু চরণ ইসলামী আকিদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কোনো মুসলিমকে তা গাইতে বাধ্য করা সমীচীন নয়।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন