গজারিয়ায় ছাত্রদলের ২৫ নেতাকর্মীর একযোগে পদত্যাগ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান

গজারিয়ায় ছাত্রদলের ২৫ নেতাকর্মীর একযোগে পদত্যাগ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান

মোঃ দুলাল সরকার, গজারিয়া (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের বহিষ্কারের প্রতিবাদে গজারিয়া উপজেলা ছাত্রদলের ২৫ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের রসুলপুর খেয়াঘাট এলাকায় বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই সিদ্ধান্ত জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সদ্য বহিষ্কৃত গজারিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাদিম মাহমুদ অপুর উপস্থিতিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুদ্দিন সরকার মিশু। সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মজিবুর রহমান এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাদিম মাহমুদ অপুকে বহিষ্কারের ঘটনায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ।

পদত্যাগকারী নেতারা জানান, আজ থেকেই তারা বিএনপি ও ছাত্রদলের সকল কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেন। আসন্ন নির্বাচনে তারা দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন। তারা আরও দাবি করেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে গজারিয়ার ৭৪ জন নেতাকর্মী মহিউদ্দিন আহমেদের পক্ষে মত দিলেও তাকে মনোনয়ন না দিয়ে কামরুজ্জামান রতনকে প্রার্থী করা হয়েছে, যা তৃণমূলকে হতাশ করেছে। এ সময় নাদিম মাহমুদ অপু অভিযোগ করে বলেন, রাজপথের কঠিন সময়ে কামরুজ্জামান রতনকে পাওয়া যায়নি, অথচ আন্দোলন-সংগ্রামে মহিউদ্দিন আহমেদের নির্দেশনাতেই তারা জীবন বাজি রেখে মাঠে ছিলেন।

পদত্যাগকারী নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন গজারিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা সিকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ পলাশ, বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের রাজিব হাসান প্রধান, টেংগারচর ইউনিয়ন সভাপতি চঞ্চল শেখ, বাউশিয়া ইউনিয়ন সভাপতি শহিদ জিয়া, ইমামপুর ইউনিয়ন সভাপতি বাঘ মাসুদ এবং গজারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সালমান ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিনসহ ২৫ জন শীর্ষ নেতা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অচিরেই পদত্যাগের এই তালিকা আরও দীর্ঘ হবে।

এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান জানান, তার কাছে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পৌঁছায়নি। তাই তারা কী কারণে বা কোন প্রক্রিয়ায় পদত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত না জেনে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ছাত্রদলের এই গণপদত্যাগ গজারিয়া বিএনপির নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন