ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সামজাদ জসি, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে অন্য এক আসামির সাধারণ মামলার জামিননামা ব্যবহার করে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক দুর্ধর্ষ আসামি পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুরে অভিনব এই পলায়নের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় চরম অবহেলার অভিযোগে ডেপুটি জেলারসহ মোট ৮ জন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে পুরো ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নবীনগর থানার ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৫১ ধারায় গ্রেফতার হওয়া দিদার হোসেন নামের এক আসামির জামিননামার কাগজ জালিয়াতি বা ব্যবহার করে কারাগার থেকে বেরিয়ে যায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হৃদয়। পলাতক হৃদয় জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের মুজিবুর মিয়ার ছেলে। সে ২০১৮ সালের আখাউড়া থানার একটি আলোচিত হত্যা মামলায় আদালত কর্তৃক ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে অন্তরীণ ছিল। একজনের সাধারণ মামলার জামিনের আড়ালে কীভাবে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বেরিয়ে গেল, তা নিয়ে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় ডেপুটি জেলার মোঃ আজহারুল ইসলাম এবং সর্ব প্রধান কারারক্ষী শাহাদাত হোসেনসহ ৮ জনকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া অন্য কারারক্ষীরা হলেন— মোরশেদ আলম, মোঃ হানিফ মিয়া, মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, মোহাম্মদ আবু খায়ের, রবিউল আলম ও শাহাব উদ্দিন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ ওবায়াদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলার সুযোগ নিয়ে কৌশলে একজনের কাগজ দিয়ে ফাঁসির আসামি পালিয়ে গেছে। দুর্ভাগ্যবশত ঘটনার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক সহায়তা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. ছগির মিয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন— চাঁদপুরের জেলার এবং ফেনীর জেল সুপার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান জানিয়েছেন, পলাতক আসামি হৃদয়কে পুনরায় গ্রেফতারে পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকাগুলোতে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ