সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে মরিচের বাম্পার ফলন: হাইব্রিড জাতে ভাগ্যবদল কৃষকের

সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে মরিচের বাম্পার ফলন: হাইব্রিড জাতে ভাগ্যবদল কৃষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে মরিচ চাষে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে বারোমাসি হাইব্রিড কাঁচা মরিচ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজারে সন্তোষজনক দাম থাকায় জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে বইছে সুবাতাস। মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ আর মরিচের ফলন কৃষকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে। যমুনা নদীর তীরবর্তী চৌহালী, বেলকুচি, কামারখন্দ, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলগুলো এখন মরিচ চাষের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চরের বেলে-দোঁআশ মাটি মরিচ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ফলনও হয়েছে আশাতীত।

ঐতিহ্যগতভাবে দেশীয় জাতের মরিচ চাষ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষকেরা হাইব্রিড জাতের দিকে ঝুঁকছেন। কাজিপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক করিম জানান, "ধানের তুলনায় মরিচ চাষে সেচ, সার ও শ্রমের খরচ কম, কিন্তু লাভ অনেক বেশি। একবার গাছ লাগালে কয়েক দফায় ফলন তোলা যায়, যা নগদ অর্থের প্রবাহ সচল রাখে।" রোগবালাই কম হওয়ায় এবং স্বল্প সময়ে ফলন আসায় চরাঞ্চলের কৃষকদের কাছে এটি এখন প্রধান অর্থকরী ফসল।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ গড়ে ৯০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের মরিচের গুণগত মান ও পরিপুষ্টতার কারণে রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের পাইকাররা সরাসরি মাঠ থেকেই ট্রাকযোগে মরিচ সংগ্রহ করছেন। অনেক কৃষক অধিক মুনাফার আশায় কাঁচা মরিচ শুকিয়ে ‘শুকনা মরিচ’ হিসেবেও সংরক্ষণ করছেন।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মওলা জানান, "আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী কৃষকেরা উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এই সাফল্য এসেছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় তারা উৎসাহিত হচ্ছেন। সিরাজগঞ্জকে ভবিষ্যতে মরিচ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সব ধরনের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখব।"

চরাঞ্চলের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল কৃষকের ভাগ্যই বদলাচ্ছে না, বরং স্থানীয় আড়তদার, পরিবহন শ্রমিক ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মাঝেও সৃষ্টি করেছে নতুন কর্মসংস্থান।

মন্তব্য করুন