তদন্ত শেষ হলেও প্রতিবেদন ঝুলে আছে: কালকিনির সেই প্রধান শিক্ষককে রক্ষার অভিযোগ

তদন্ত শেষ হলেও প্রতিবেদন ঝুলে আছে: কালকিনির সেই প্রধান শিক্ষককে রক্ষার অভিযোগ

মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ রাজদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা ১৪টি গুরুতর অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এডিপিও) মো. মজনুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলে গড়িমসি করার মাধ্যমে অভিযুক্তকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ১৭ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—পঞ্চম শ্রেণির প্রত্যয়নপত্র দিতে অর্থ আদায়, প্লেয়িং অ্যাক্সেসরিজ খাতের দেড় লাখ টাকার কাজ না করা, ভুয়া ভাউচারে ওয়াশ ব্লকের টাকা উত্তোলন, স্লিপ ও রুটিন মেইনটেন্যান্স খাতের অর্থ অপব্যবহার এবং বিদ্যালয়ের টিনশেড কক্ষ ও পুরাতন বই বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ। এ ছাড়া নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত না থাকা এবং প্রাইভেট পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ দেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের ভিত্তিতে এডিপিও মো. মজনুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি গত ৫ জানুয়ারি তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। তবে এক মাস পার হলেও প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে তাদের অর্থ প্রদানের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষকও তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. মজনুর রহমান জানান যে, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়েছে এবং এটি দ্রুত জমা দেওয়া হবে। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, টাকা ফেরত দেওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফজলে এলাহী জানিয়েছেন যে, তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা হাতে পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন