চায়ের কাপেও ভোটের ঝড়: নির্বাচনী আমেজে মুখরিত চুয়াডাঙ্গা

চায়ের কাপেও ভোটের ঝড়: নির্বাচনী আমেজে মুখরিত চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার চায়ের দোকানগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামায় জেলাজুড়ে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টার, মাইকিং আর মিছিলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আড্ডার প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘নির্বাচনী আলাপ’।

শহরের শহীদ হাসান চত্বর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের অলিগলি—সবখানেই চলছে ভোটের চুলচেরা বিশ্লেষণ। চায়ের কাপের টুং-টাং শব্দের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভোটারদের যুক্তিতর্ক। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীর জয়-পরাজয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আসনভিত্তিক ভোটের হালচাল:

  • চুয়াডাঙ্গা-১ (সদর ও আলমডাঙ্গা): এই আসনে ৫ লাখ ১১ হাজার ৪৮১ জন ভোটারের নজর এখন মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর দিকে। এখানে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ (ধানের শীষ) এবং ১১ দলীয় জোটের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল (দাঁড়িপাল্লা)-এর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছেন ভোটাররা। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

  • চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদরের একাংশ): ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৩১ জন ভোটারের এই আসনে ভোটের হাওয়া বেশ গরম। এখানে জেলা বিএনপির সভাপতি ও শিল্পপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু (ধানের শীষ) এবং জামায়াতের জেলা আমির মো. রুহুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা)-এর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব (হাতপাখা) তরুণ ভোটারদের টানতে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

চায়ের দোকানে সরগরম আড্ডা: শহরতলীর দৌলাতদিয়ার এক চা দোকানি জানান, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখন শুধু নির্বাচন আর রাজনীতি নিয়েই কথা হয়। প্রার্থীর সমর্থকরা নিজেদের নেতার গুণগান গাওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সমালোচনাও করছেন। অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থীর স্থানীয় কর্মীরাই চায়ের বিল মিটিয়ে দিচ্ছেন, যাতে আড্ডার মাধ্যমে তাদের নেতার পক্ষে জনমত তৈরি হয়।

দর্শনা রেল বাজারের চা দোকানি আনারুল ইসলাম বলেন, "ভোটের কারণে চায়ের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কাস্টমারদের সামলাতে নতুন কাপ ও কেটলিও কিনতে হয়েছে।"

জেলায় মোট ১০ লাখ ১০ হাজার ৮০ জন ভোটারের এই রায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হবে। তবে নির্বাচনের আগে চায়ের কাপে যে 'ভোটের ঝড়' উঠেছে, তা প্রমাণ করে চুয়াডাঙ্গার মানুষ গণতান্ত্রিক এই উৎসবের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন