ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জসহ পুরো সিলেট অঞ্চলে নির্বিচারে পাহাড়-টিলা কেটে অবৈধভাবে রিসোর্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির মহোৎসব চলছে। রাধানগর, লাউয়াছড়া, ডলুবাড়ি ও মাঝেরছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক টিলা ধ্বংস করে একের পর এক ইমারত নির্মিত হওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে।
সরেজমিনে ডলুবাড়ি এলাকায় দেখা যায়, সরকারি বিধিনিষেধকে তোয়াক্কা না করেই প্রভাবশালী একটি মহল এবং কিছু স্থানীয় জনপ্রতিনিধির যোগসাজশে টিলা কাটার কাজ চলছে। পাহাড় কাটার ফলে প্রাকৃতিক ভূ-প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে এবং অনেক স্থানে পানির স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন মাঝে মাঝে জরিমানা বা লোকদেখানো অভিযান চালালেও রহস্যজনক কারণে এই অবৈধ নির্মাণ কাজ স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ পাহাড় ও প্রকৃতি রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটি উপজেলা শাখার সভাপতি সাহারাব ইসলাম রুহিন বলেন, "আমরা একাধিক স্থান পরিদর্শন করে পাহাড় কেটে রিসোর্ট নির্মাণের প্রমাণ পেয়েছি। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ আমাদের চোখে পড়েনি।" পরিবেশবাদীদের দাবি, কঠোর প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় পাহাড় খেকোরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহিদুল ইসলাম জানান, পাহাড় কেটে রিসোর্ট তৈরি করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর কোনো সুযোগ নেই। তিনি আশ্বাস দেন যে, নিয়মবহির্ভূত এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে শ্রীমঙ্গলের রাধানগরের তাওসী গার্ডেনসহ কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযানের জোর দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী টিলা কাটা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও কৃষিভূমি ও বনভূমি ধ্বংস করে এমন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ