অনলাইনে শিবিরের হেনস্তার শিকার ঢাবি শিক্ষিকা শেহরীন আমিন মোনামী

প্রকাশ: শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ণ
অনলাইনে শিবিরের হেনস্তার শিকার ঢাবি শিক্ষিকা শেহরীন আমিন মোনামী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী (ফাইল ছবি)।

 সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনবরত ট্যাগ দিয়ে কটূক্তি ও চরম মানসিক হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী। তাঁর এই অভিযোগের তীর উঠেছে মূলত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের দিকে।

গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ পোস্টে তিনি এ অভিযোগ তুলে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী—যাদের মধ্যে একজন ছাত্রশিবিরের প্রত্যক্ষ সমর্থক বা সংগঠনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত—শ্রেণিকক্ষের সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধারাবাহিক আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত হেনস্তার তালিকায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকেও যুক্ত করা হয়।

বিষয়টি জানার পর একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবে তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাই ও জড়িত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের সিদ্ধান্ত নেন। আর এই উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংঘবদ্ধ সাইবার বুলিং শুরু হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনলাইন হেনস্তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে এই শিক্ষিকা লেখেন, “অনবরত আমাকে ট্যাগ দিয়ে হ্যারাসমেন্ট করা হচ্ছে। টিপ্পনী কেটে নানা রকম কথা শোনানো হচ্ছে। তা-ও আবার ঢাবির ছেলেরাই এসব করছে। পলিটিক্যাল রাইভাল যেহেতু, তার ওপর আমি যেহেতু আগে কখনো শিবিরকে ভালো বলেছি—তাই আমাকে এখন আবার নতুন করে নাজেহাল না করলে কি তাদের রাত কাটবে না?”

নারীবিদ্বেষী মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করে মোনামী তাঁর পোস্টে আরও যোগ করেন, “এরা সরাসরি আক্রমণ করে হয়রানি করবে, নয়তো পরোক্ষভাবে ট্রল করবে। তবে তাদের মূল লক্ষ্য একটাই—যেকোনো অজুহাতে একজন নারীকে অপদস্থ ও হয়রানি করা, তিনি যে পর্যায়ের মানুষই হোন না কেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষকের প্রকাশ্যে এ ধরনের হয়রানির অভিযোগ সামনে আসার পর ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য করুন