১৫ বছরের নির্যাতনেও দমে যাইনি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল,
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৫ বছর ধরে আমাদের ওপর অমানবিক জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমাদের ছেলেদের বিরুদ্ধেও এমন কোনো মামলা নেই যা দেওয়া হয়নি। আমার নিজের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে, ১১ বার জেলে গেছি এবং সাড়ে তিন বছর কারাবরণ করেছি।
তিনি বলেন, আল্লাহর হুকুমে আমরা কখনো পথ ছাড়িনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ঠাকুরগাঁও সদর থানায় আমার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাড়ে সাত হাজার মামলা হয়েছে। কিন্তু কেউ দমে যায়নি, কেউ আওয়ামী লীগে যোগ দেয়নি। কারণ আমরা সঠিক পথে ছিলাম, সত্যের পক্ষে ছিলাম। সত্যের পক্ষে থাকার কারণেই ২৪-এর আন্দোলনের পর আমরা কিছুটা মুক্ত বাতাস পেয়েছি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও দাখিল মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারে। আগে পুলিশি ভয়ের কারণে অনেকেই ঘরে থাকতে পারত না, খোলা মাঠে ঘুমাত। এখন আমাদের দায়িত্ব একটি সুন্দর দেশ ও ভালো দিন গড়ে তোলা। পাল্টা মামলাবাজিতে না জড়ানো। তারা মামলা করেছে বলে আমরা প্রতিশোধ নেব—এমনটা যেন না হয়। আমাদের নেত্রী সদ্য প্রয়াত বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, কোনো প্রতিহিংসা নয়, প্রতিশোধ নয়, হিংসা নয়। আসুন ভালোবাসা দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ি। এসব বললেই কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলে আমরা নাকি আপোষ করেছি। এটা আপোষ নয়, এটা ভ্রাতৃত্ববোধের নতুন সমাজ গড়ার আহ্বান।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দেশে হিন্দু-বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। রাজনীতিতে ধর্ম টেনে আনলে পক্ষপাতিত্ব তৈরি হয়। এই নির্বাচনে আমরা প্রথমেই আপনাদের শান্তি ও নিরাপত্তা দিতে চাই। হিন্দু ভাই-বোনদের নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা আছে, তা দূর করতে হবে। তাদের বলছি—সাহসী হন, বুকের মধ্যে শক্তি আনুন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির পার্থক্য হলো—বিএনপি একটি পরীক্ষিত দল। ক্ষমতায় গেলে মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সেই কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে চাল-ডাল ও আটা পাওয়া যাবে। হাসপাতালে চিকিৎসা মিলবে, সন্তানদের শিক্ষায় সহায়তা করা হবে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করে সার ও বীজ ন্যায্যমূল্যে দেওয়া হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, পৌরসভার চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য থাকাকালে আমি আগেও কাজ করেছি। আমাকে নতুন করে পরিচয় দেওয়ার কিছু নেই। আমার পরিবারকেও আপনারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। বাবা-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি, আপনাদের আমানতের খেয়ানত করব না। এলাকার সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব। অতীতে দুর্বৃত্তদের যে অত্যাচার ছিল, তা আর থাকবে না। আমার দলের কেউ দুর্বৃত্তায়নে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আই.এ/সকালবেলা