দিনাজপুরের ৬ আসনে বিএনপি-জামায়াত দ্বৈরথ: লড়াইয়ে জাতীয় পার্টি ও অন্য দলগুলোও

দিনাজপুরের ৬ আসনে বিএনপি-জামায়াত দ্বৈরথ: লড়াইয়ে জাতীয় পার্টি ও অন্য দলগুলোও

তাজুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে বইছে ভোটের হাওয়া। এবার জেলায় ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ৯৮৩ জন। ১২তম সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫২ জন নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। জেলার ১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ৬টি আসনেই মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আসনভিত্তিক ভোটের চিত্র:

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল): এখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম এবং জামায়াতের মতিউর রহমান। মনজুরুল ইসলাম দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক মডেল উপজেলা গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। অন্যদিকে, জামায়াত নেতা মতিউর রহমান তার বিজয় নিয়ে আশাবাদী। এই আসনে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ, যা জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ): এই আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব সাদিক রিয়াজ পিনাক চৌধুরী। তবে এখানে দলীয় কোন্দল প্রকট। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ব ম বজলুর রশিদ কালু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামায় বিএনপি কিছুটা বিপাকে রয়েছে। জামায়াতের পক্ষে লড়ছেন এ কে এম আফজালুল আনাম। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির জুলফিকার হোসেনও প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দিনাজপুর-৩ (সদর): এই আসনটি বিএনপি নেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। তার মৃত্যুর পর এখানে বিএনপির হাল ধরেছেন সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি জানান, উন্নয়নের ধারা ফিরিয়ে আনতে ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত। এখানে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাইনুুল আলম এবং জাতীয় পার্টির আহমেদ শফি রুবেলও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।

দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা): ২০০১ সালের আদলে এখানে আবারও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সাবেক এমপি ও বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিয়া। তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন জামায়াত নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন মোল্লা। চিরিরবন্দরকে বিএনপির ‘ভোট ব্যাংক’ বলা হলেও জামায়াত ছাড় দিতে নারাজ।

দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী): দেশের খনি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিএনপির এ কে এম কামরুজ্জামান এবং জামায়াতের আনোয়ার হোসেনের মধ্যে লড়াই হবে। তবে এখানে জোটবদ্ধ রাজনীতির সমীকরণে জামায়াত আসনটি এনসিপি-র ড. আব্দুল আহাদকে ছেড়ে দিয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-হাকিমপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট): জেলার বৃহত্তম এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তার বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম। ডা. জাহিদ সুশাসন ও স্বচ্ছতার অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

প্রশাসনের প্রস্তুতি: দিনাজপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম জানান, ৬টি আসনে মোট ৮৪১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নারী ভোটার (১৩ লাখ ২৪ হাজার ৬৫১) পুরুষ ভোটারের (১৩ লাখ ২২ হাজার ৩১০) তুলনায় কিছুটা বেশি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

নির্বাচনী মাঠে এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাম দলগুলো প্রার্থী দিলেও মূল লড়াইয়ে ধানের শীষ ও জামায়াত নেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন